প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (২০ মে) গাজীপুর যাচ্ছেন। দিনব্যাপী এই সফরে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। তার আগমনের বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলাজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে অভূতপূর্ব উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস।
জানা যায়, বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী সফিপুর আনসার একাডেমিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম রাষ্ট্রীয় কুচকাওয়াজ ও জাতীয় সমাবেশে যোগ দেবেন। তিনি বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন। সেখান থেকে বিকেলে গাজীপুরের গাছা এলাকায় ‘জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এ ধরনের বিশেষায়িত ভবন বাংলাদেশে এটাই প্রথম। এই ইনস্টিটিউট দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানই প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে গাজীপুরকে ঢাকা জেলা থেকে আলাদা করে নতুন মহকুমা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সেই ঐতিহাসিক মহকুমা ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গাজীপুরকে মহকুমা ঘোষণা করে এই অঞ্চলের মানুষের আত্মপরিচয় ও উন্নয়নের যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আজ এই জেলা একটি অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক হাবে পরিণত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গাছা ও সফিপুরসহ পুরো গাজীপুর মহানগরীকে নান্দনিক সাজে সাজানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রীর বুধবারের এই সফর গাজীপুরবাসীর জন্য এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।