সারা বাংলা

জীবন বাঁচাতে তিনতলা থেকে লাফ দেন ২ নার্স ও চিকিৎসক

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাগা আগুন থেকে বাঁচতে তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়েন দুই নার্স ও একজন চিকিৎসক। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো তিন নার্স। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি ঘটনার সময় রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, “ঠিক কি কারণে আগুন লেগেছে এখনো জানা যায়নি। আগুনের কারণে হাসাপাতালে অক্সিজেন সাপ্লাই ব্যহত হওয়ায় এই মুহূর্তে সব ধরণের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।”

বুধবার (২০ মে) ভোর ৬টার দিকে হাসপাতালের জরুরি অপারেশন থিয়েটারে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট এক ঘণ্টার বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

হাসপাতালের জরুরি অপারেশন থিয়েটারের (ইমারজেন্সি ওটি) দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. দিলীপ কুমার জানান, বুধবার সকাল ৫টা ৫০ মিনিটে ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটারের পাশে পোস্ট অপারেটিভ রুম এবং পাশের স্টোর রুমের কোনো একটিতে শর্ট সার্কিট হয়ে থাকতে পারে। এতে এসির আউটডোর এবং পরে অক্সিজেন আউটডোরে আগুন লাগে। অক্সিজেন আউটডোরের মুখে আগুন লাগার কারণে হয়তো দরজা বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ওটিতে থাকা দুইজন নার্স ও একজন ডাক্তার জালানা দিয়ে নিচে লাফ দিয়েছেন। তিনজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

তিনি জানান, বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ওটি বিভাগের ১৫টি সিটে রোগী ছিল। আগুন লাগার পরপরই তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিভাবে কি কারণে আগুন লেগেছে তা সঠিক তথ্য এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

রোগের স্বজনরা জানান, আগুন লাগার ঘটনায় খুলনা মেডিকেল হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে স্বজনরা হাসপাতাল থেকে রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।  

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, আগুন ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে রোগী, রোগীর স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইসিইউ কক্ষ থেকে রোগীদের শয্যাসহ তাৎক্ষণিক বাইরে রেব করে দেওয়া হয়। তিনতলা থেকে লাফ দিয়ে পড়া নার্স ও চিকিৎসক আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।