গাইবান্ধার ফুলছড়িতে সোহেল রানা নামের এক মাদকাসক্ত যুবকের বটির কোপে মারা গেছেন তার ফুফু জহুরা বেগম। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই যুবকের মা আনোয়ারা বেগম (৫০) ও চাচি জুলেখা বেগম (৪৫)।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের বাজেতেলকুপি চরে এ ঘটনা ঘটে। সোহেল রানা ওই এলাকার মৃত সামু মিয়ার ছেলে। তাকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরেই মাদকে আসক্ত। নেশার টাকা না পেয়ে এ কাণ্ড ঘটান তিনি। এলাকাবাসী তাকে আটক করে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে ধরে নৌকায় করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তারা আরো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই নেশা করার জন্য মায়ের কাছে ৫০০ টাকা চান সোহেল। টাকা না পেয়ে বটি দিয়ে প্রথমে নিজের মাকে কোপান। মা আনোয়ারা বেগম চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে চাচি জুলেখা এগিয়ে আসেন। তাকেও এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন সোহেল। পরে ফুফু জহুরা বেগম এগিয়ে এলে তার হাতে ও পেটে বটি দিয়ে কোপ দেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই জহুরা বেগমের মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহত আনোয়ারা বেগম ও জুলেখা বেগমকে স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হানিফ প্রামাণিক বলেছেন, “বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটতে পারে।”
ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা বলেছেন, “ঘাতককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করার কথা রয়েছে।”