কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাগেরহাটের বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে হাজারো পশু। এর মধ্যে সবার নজর কেড়েছে শেখ ইব্রাহিম হোসেন নামে এক ব্যক্তির খামারে থাকা ‘মামা’ ও ‘ভাগ্নে’ নামে দুই ষাঁড়।
সদর উপজেলার হাকিমপুর গ্রামের নাজমা ডেইরি ফার্মে থাকা ষাঁড় দুটির ওজন ১ হাজার ১০০ ও ১ হাজার ২০০ কেজি। বিশাল আকৃতির ষাঁড় দুটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে আসছেন অনেক মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খামারেই জন্ম নেওয়া হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড় দুটির নাম ভালোবেসে মামা-ভাগ্নে রাখেন ইব্রাহিম। প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকার খড়, ঘাস ও ভূষিসহ দেশিয় খাবার খাওয়ানো হয় তাদের। প্রাণী দুটিকে পরিবারের সবাই মিলে বড় করেছেন।
এবারের কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা ১০ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট উচ্চতার ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের ভাগ্নের দাম খামারের মালিক চাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। ১ হাজার ১০০ কেজে ওজনের মামা নামের ষাঁড়টির দাম চাওয়া হয়েছে ৮ লাখ টাকা।
খামার মালিক ইব্রাহিম বলেন, “আমি প্রায় ২০ বছর ধরে খামারে গাভী লালন পালন করছি। এ খামারেই জম্ম নেয় হলিস্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের দুটি বকনা। ভালোবেসে তাদের নাম রাখা হয় মামা ও ভাগ্নে। প্রাথমিকভাবে, একটির দাম ১০ লাখ ও অন্যটির দাম ৮ লাখ টাকা নির্ধারন করেছি। তবে, ন্যায্য মূল্যে পেলে বিক্রি করে দেব।” বাগেরহাট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু এই ‘মামা’ ও ‘ভাগ্নে’ বলেও জানান তিনি।
খামার মালিক ইব্রাহিমের মা নাজমা বেগম বলেন, “ছোট বেলায় ছাগল পালন করতাম। ছাগল থেকে গরু পালন শুরু করেছি। একটা গরু দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখন বড় দুটিসহ মোট ১১টি গরু আছে খামারে। তাদের সন্তানের মতোই লালন পালন করি।”
বাগেরহাট ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্ট ইনচার্জ মো. মারুফ হোসেন বলেন, “আমরা নাজমা ডেইরি ফার্ম থেকে সব সময় দুধ নিয়ে থাকি। তাদের নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে লাভবান হতে পারেন।”
বাগেরহাট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, “বাগেরহাটের হাকিমপুরে নাজমা ডেইরি ফার্মে জেলার সবচেয়ে বড় গরু দুটি রয়েছে। একটির ওজন ১ হাজার ১০০ কেজি, আরেকটা ১ হাজার ২০০ কেজি। খামারিরা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। আশা করছি, ভালো দামে গরু দুটি বিক্রি করতে পারবেন খামারি।”