প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘শিশু রামিসা হত্যার বিচার আগামী এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করব এবং হত্যাকারীর সর্ব্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একটি নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’’
শনিবার (২৩ মে) দুপুর সোয়া ২টার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নের দরিয়ারপুর গ্রামের ধরার খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে এক আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ শেষে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ হত্যাকাণ্ড দেশের ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘‘দেশে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষের জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে একটি দল। যারা এই রকম পরিস্থিতি তৈরি করতে চেষ্টা করছে, তারা কিন্তু কৃষককে নিয়ে কোনো কথা বলে না। যারা একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করতে চেষ্টা করছে, তারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো কথা বলে না। যারা এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ করার চেষ্টা করছে, তারা কিন্তু কৃষকের খাল কাটার কথা বলে না। তারা কৃষকের কৃষক কার্ডের কথা বলে না। যারা এই ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তাদের কিন্তু ছোট ছোট গ্রামের মাসুম বাচ্চারা কীভাবে স্কুলে খালি পায়ে যায়, সেই দিকে তাদের খেয়াল নাই। তাদের নতুন পোশাক দেওয়ার কথা বলে না।’’
তিনি আরও বলেন, আজকে যারা দেশের এই রকম পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তাদের ব্যাপারে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। তারা যদি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তাহলে সারা দেশে এই খাল কাটা বন্ধ হয়ে যাবে।
এতে দেশের সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে উল্লেখ্য করে তারেক রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা যদি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে ফ্যামিলি কার্ডের যে বিতরণ, সেই বিতরণ বন্ধ হয়ে যাবে। তারা যদি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে কৃষক কার্ডের বিতরণ বন্ধ হয়ে যাবে। তারা যদি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে ইমাম সাহেব, মোয়াজ্জেম সাহেব, খতিব সাহেবদের ক্ষতি হবে। অন্যান্য ধর্মের যে ধর্মগুরু আছেন, তাদের সম্মানী দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘‘সেই জন্যই আমরা, আপনারা সবাইকে সতর্ক হতে হবে। আপনারা পত্রপত্রিকা পড়েন। আপনারা সোশ্যাল মিডিয়ার যে খবর দেখেন; ওই যে ৫ আগস্ট যাদের বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে, খবর নিয়ে দেখেন; ওই ৫ আগস্ট যারা বিতাড়িত, তাদের সঙ্গে এরা তলে তলে আবার সমঝোতা করেছে। যেভাবে ৯৬ সালে করেছিল, যেভাবে ৮৬ সালে করেছিল। তাদের সঙ্গে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে। সুন্দর ছোট ছোট লেজ গজিয়েছে।’’
নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তারেক রহমান তিনি বলেন, ‘‘মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয় করে তুলতে হবে। দক্ষ শ্রমিকের হাত তৈরি করতে হবে। আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত দিয়ে নতুন ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। তাহলে আমরা এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।’’
খাল পুনঃখনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্ম জয়ন্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে তিনি সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।