সারা বাংলা

ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাকে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ

ঈদযাত্রাকে ঘিরে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। মহাসড়কে বাসসহ গণপরিবহন সংকট দেখা দেওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বাসের ছাদে বা খোলা ট্রাকে চড়ে বাড়ি যাচ্ছে। 

আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে। 

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে মহাসড়কের নগরজলফৈ, রাবনা, এলেঙ্গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাসে, আবার অনেকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক বা পিকআপে গন্তব্যে যাচ্ছে। 

বগুড়াগামী এনামুল হক বলেন, ‘‘আমি টাঙ্গাইল শহরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ৩০০ টাকার ভাড়া আজকে চাচ্ছে ৯০০ টাকা। তাই বাধ্য হয়ে ৪০০ টাকা দিয়ে ট্রাকে যাচ্ছি।’’  

সিরাজগঞ্জের টুটুল মিয়া বলেন, ‘‘স্বাভাবিক বাস ভাড়া ১০০ টাকা। আজকে বাস না পেয়ে ২০০ টাকা দিয়ে পিকআপে যাচ্ছি।’’  

নাটোরের সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘দেড় ঘণ্টা বাস না পেয়ে এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। ঢাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও টাঙ্গাইলে কোনো পদক্ষেপ নেই।’’ 

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার (২৩ মে) দিবাগত রাত ১২টা থেকে রবিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী ২২ হাজার ১১২টি যানবাহন পার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৭ হাজার ৮০৭টি যানবাহন পার হয়েছে। এতে টোল আদায় ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি করে বুথ দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার হচ্ছে। সার্বিক্ষণিক টোল আদায় চালু রাখা হচ্ছে। এখনো যানজট হয়নি।

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।