সারা বাংলা

ঈদযাত্রায় উত্তরের যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াবে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক

এবার ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ, সড়কের ওপর যত্রতত্র অটোরিকশার চলাচল এবং ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে এবারও ঈদযাত্রায় কয়েক গুণ বেশি ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা।

এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ ও সংকুচিত সড়ক সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত অংশজুড়ে বর্তমানে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণসামগ্রী, রড, কংক্রিট ব্লক ও ভারী যন্ত্রপাতি স্তূপ করে রাখায় অনেক জায়গায় রাস্তা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং গাড়ির সামান্য চাপ বাড়লেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

আলম নামের এক পরিবহন শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্মাণকাজের কারণে অনেক স্থানে সড়ক সরু হয়ে গেছে। ফলে, একটি গাড়ি বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী রাখায় অনেক সময় পাশ কাটিয়ে গাড়ি চালানোও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ধীরগতির যান ও শিল্পাঞ্চলের অতিরিক্ত চাপ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে দিনের বেশিরভাগ সময়ই ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। যেহেতু, এটি শিল্পাঞ্চল, তাই এই পথে নিয়মিতই ভারী যানবাহনের চাপ অনেক বেশি থাকে। এর ওপর আবার যুক্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল। প্রধান এই মহাসড়কে এসব নিষিদ্ধ যান চলায় পরিস্থিতি আরো জটিল রূপ ধারণ করেছে।

এ পথের নিয়মিত যাত্রীরা আগের বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে এবারও দীর্ঘ ভোগান্তির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঈদের সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে না। বিশেষ করে, ঈদের আগের শেষ দুই-তিন দিনে মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকসহ অতিরিক্ত মানুষের চাপ তৈরি হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

প্রশাসনের প্রস্তুতি ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এবার আগাম সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও মাঠে সক্রিয় থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি এবং কোনো গাড়ি বিকল হলে তা দ্রুত রেকার দিয়ে অপসারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) আশুলিয়া শাখার সভাপতি জিএম মিন্টু বলেন, “সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে, ঈদের এই সময়ে ধীরগতির যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং রাস্তা থেকে নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরানো না গেলে যানজট কমানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।”

গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহজাহান জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। কোথাও যানজট তৈরি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।

মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের নানা উদ্যোগ ও আশ্বাসের পরও চলমান নির্মাণকাজ, যত্রতত্র বাজার এবং ধীরগতির যানবাহনের কারণে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ঈদযাত্রা শেষ পর্যন্ত কতটা স্বস্তিদায়ক হবে, তা নিয়েই এখন চরম উদ্বেগে রয়েছেন উত্তরবঙ্গের লাখো যাত্রী।