সারা বাংলা

সাভার-আশুলিয়ায় বৃষ্টি ও ধীরগতিতে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন শিল্পকারখানা ছুটি হতেই ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে মহাসড়কে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এই অঞ্চলের শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষেরা।

এতে সাভার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি ও থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টি যাত্রীদের ঈদযাত্রায় কিছুটা ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ সূত্রে জানা গেছে, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি) এবং অন্যান্য (নন-আরএমজি) মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৭০৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৩১ শতাংশ এবং আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর আরো ৪৭ শতাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়। ফলে দুপুরের পর থেকেই সড়কগুলোতে ঘরমুখী মানুষের চাপ তীব্র হতে শুরু করে। আগামীকাল বুধবার বাকি কারখানাগুলো ছুটি হলে যাত্রী ও গাড়ির চাপ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিকেলের পর থেকে যাত্রীর চাপ, ধীরগতিতে ভোগান্তি

আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের কোথাও বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া না গেলেও বিকেলের পর থেকে দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গাবতলী থেকে আমিনবাজার, হেমায়েতপুর, সাভার হয়ে নবীনগর অংশে যানবাহনের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। গাবতলী থেকে নবীনগর পৌঁছাতে যাত্রীদের প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে।

এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পল্লীবিদ্যুৎ, বাইপাইল ত্রিমোড়, বলিভদ্র, জিরানি এবং বাড়ৈপাড়া অংশেও যানবাহনের তীব্র চাপ ও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবহন সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। নিরুপায় হয়ে অনেককেই বিকল্প হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে খোলা ট্রাক, মালবাহী ট্রাক ও পিক-আপ ভ্যানে চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান মিয়া বলেন, “নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়িগুলোকে কিছুটা ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। এছাড়া বাইপাইল এলাকাতেও গাড়ির গতি কিছুটা কম রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মহাসড়কে তৎপর রয়েছে।”

এদিকে, মহাসড়কের পাশাপাশি বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং টিকিট কাটার পরও নির্ধারিত সময়ে বাস না পাওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

নবীনগর ও বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদকে পুঁজি করে পরিবহনগুলো দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা মিলছে না।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ঢাকা জেলা (উত্তর) ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রুহুল আমিন সোহেল বলেন, “মহাসড়কে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে রবিবার সকাল থেকে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত আরো ৬৫০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দিন-রাত তিনটি শিফটে ভাগ হয়ে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।”

তিনি আরো জানান, বাইপাইল ও নবীনগর মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাসগুলো যেন দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে যানজট বা ভোগান্তি সৃষ্টি না করতে পারে, সেজন্য বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। এছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সার্বক্ষণিক দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে কাজ করছেন। একই সঙ্গে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।