কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, “চামড়া ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হলে ব্যবসায়ীরা ন্যায্য দাম পাবেন এবং দেশের চামড়া শিল্প আরো শক্তিশালী হবে।”
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে সিলেট সার্কিট হাউজে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “দেশে কোরবানির সময় বিপুল পরিমাণ গরু, ছাগল ও বকরির চামড়া সংগ্রহ হয়। এসব চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে সারা বছর তা ব্যবহার করে ব্যাগ, জুতা, স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করা সম্ভব। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো এত বেশি কারখানা গড়ে ওঠেনি যে, কোরবানির পর স্বল্প সময়ের মধ্যে সব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। এ কারণে চামড়া সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে সব চামড়া হেমায়েতপুরে পাঠানো হলে সেখানে চাপ বেড়ে যায় এবং ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়। তাই প্রথম ৭-১০ দিন চামড়া সংরক্ষণ করে পরে ধাপে ধাপে পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রথমে রক্ত ও চর্বি পরিষ্কার করতে হবে। এরপর পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ ব্যবহার করে সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষিত চামড়ার মূল্য ব্যবসায়ীরা পাবেন।”
তিনি বলেন, “অতীতে চামড়া ব্যবসা নিয়ে যেসব অনিয়ম বা সমস্যার অভিযোগ ছিল, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়; সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। ঢাকার ব্যবসায়ী সমিতি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
মন্ত্রী আরো বলেন, চামড়া শিল্প দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই খাতকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। তাই সবাইকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।