বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহা। পরিবারের সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠতে ঘরমুখী মানুষ। গাজীপুরে মঙ্গলবার রাতভর তীব্র যানজটের কবলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় মানুষদের। এরই মধ্যে বুধবার (২৭ মে) সকালে শুরু হওয়া বৃষ্টি তাদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে গাজীপুরে দুটি মহাসড়কে মানুষর ঢল নামে, এতেই শুধু হয় যানজট। ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করলেও রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটে পড়েন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দিতে। এরমধ্যে দেখা দেয় পরিবহন সংকট।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা পূর্ব পাশের ১০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে ১০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। রাতে বিভিন্ন স্থানে পরিবহন কয়েক ঘণ্টা স্থির দাঁড়িয়ে ছিল।
বুধবার ভোরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তুমুল বৃষ্টির কারণে মহাসড়কে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। এখনো চন্দ্রা, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎসহ কয়েকটি এলাকায় শত শত যাত্রী পরিবহনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে বাড়ি ফিরছেন।
আলী হাসান নামে এক যাত্রী বলেন, চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় আসতে এক ঘণ্টা সময় লাগে, অথচ আমি মঙ্গলবার রাতে রওনা হয়ে আজ বুধবার ভোরে পৌঁছেছি। যানজট বৃষ্টি হওয়ার কারণেই আরো বেড়েছে। যারা বাসে যাচ্ছেন তারা তবুও ভালো আছেন, কিন্তু যারা ট্রাকে বাড়ি ফিরছেন তাদের অবস্থা খারাপ।”
সেতারা খাতুন নামে এক যাত্রী বলেন, “১০ দিনের ঈদের ছুটি রাস্তায় আমাদের দুইদিন শেষ হয়ে যাবে। ভেবেছিলাম ভোগান্তি কম হবে, কিন্তু এবার আরো বেশি সমস্যা। ভালো গাড়ি পেলে তাও গাড়িতে বসে থাকা যায়। মঙ্গলবার বিকেলে বের হয়ে আবার বাসায় ফিরে গিয়েছিলাম। সকালে বের হয়েছি কিন্তু বৃষ্টি ও গাড়ি সংকট।”
নাওজোড় হাইওয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, “বৃষ্টির কারণে ভোগান্তি বেড়েছে ঘরমুখী মানুষের। আশা করছি, আজ দুপুরের মধ্যে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”