ফরিদপুরে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ৮টার মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
মৃত দুই শিশু হলো— রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিমের ৯ মাস বয়সী ছেলে আয়ান করিম এবং ফরিদপুর শহরের হারুকান্দি মহল্লার কামরুল ইসলামের ছেলে ৩ মাস বয়সী আব্দুল্লাহ।
ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ৪ জন করে মারা গেছে গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলার। এছাড়া, মাদারীপুরের ৩ জন, রাজবাড়ীর ৩ জন এবং মাগুরা ও যশোরের ১ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু।
২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ও বর্তমান পরিস্থিতি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরের হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে এই দুটি হাসপাতালে মোট ১২৯ জন হামের উপসর্গবাহী রোগী চিকিৎসাধীন আছে, তাদের মধ্যে নতুন রোগী ৩০ জন এবং পুরাতন রোগী ৯৯ জন। হাসপাতালভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮১ জন (নতুন ১৮ ও পুরাতন ৬৩) এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৪৮ জন (নতুন ১২ ও পুরাতন ৩৬) রোগী চিকিৎসাধীন আছে।
এর বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩৩ জন হাম রোগী। তাদের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৬ জন এবং জেনারেল হাসপাতাল থেকে ১৭ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ২৯ মে পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ৩০০ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৫৭৬ জনসহ পুরো জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৯৯২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত দুই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে মোট ১ হাজার ৭৩১ জন (মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১ হাজার ২০৩ জন ও জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৫২৮ জন)।
ফরিদপুরের শিশু বিশেষজ্ঞ আব্দুল্লাহ সায়াদ জানিয়েছেন, শিশুদের অনেকেই জ্বর, শরীরে লালচে দানা, শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিলতা অনেক বাড়ছে।
এদিকে, হামের বিস্তার রোধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে। বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান ও প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ডা. মাহমুদুল হাসান বলেছেন, “হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। একইসঙ্গে সব শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।”