ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরাকে নিহত হবি মিয়া পাইক ওরফে মোহাম্মদ শ্রাবণের মরদেহ আড়াই মাস পর দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) জুমার নামাজের পর মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের বকুলতলা এলাকায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শ্রাবণের মরদেহ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখানে সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে মরদেহ বকুলতলা এলাকার বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতরণ ঘটে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন শ্রাবেণের মা-স্ত্রীসহ পরিবারের স্বজনরা।
স্বজনরা জানান, গত ১৬ মার্চ পরিবারের কাছে খবর আসে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরাকে নিহত হয়েছেন শ্রাবণ। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। বাড়ির পাশেই নতুন করে সংসার গড়ার স্বপ্নে জমিও কিনেছিলেন। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জীবিত নয়, লাশ হয়ে ফিরতে হলো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। শ্রাবণের বড় মেয়ে উম্মে হাবিবা ১৬ ও ছোট মেয়ে নাফিজা জাহান আলিশার বয়স ৯ বছর।
নিহতের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, “আমার একটাই আবেদন, সরকার যেন আমাদের সংসার চলার একটা ব্যবস্থা করে দেয়।”