সারা বাংলা

সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ঈদ আনন্দ, হতাশ ব্যবসায়ীরা 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার স্নিগ্ধ সমুদ্র সৈতকে যেন আনন্দের ঢেউ লেগেছে। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দপিপাসু মানুষের ঈদ আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষের ঢল নেমেছে সেখানে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের মধ্যে সৈকতে ঈদের উৎসব বাড়তি খুশির কারণ হয়ে উঠেছে।

ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার (৩০ মে) সমুদ্রের নোনা জলে গাঁ ভাসিয়ে উৎসবে মেতেছেন হাজারো পর্যটক। অনেকে আবার বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড় করছেন। কেউবা আবার স্পিড বোড কিংবা ওয়াটার বাইকে চরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সমুদ্রের বুকে। অনেকে প্রিয়জনের হাত ধরে সৈকতের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সৈকতের বেঞ্চিতে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে অনেককে। 

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল থেকে সৈকতে পর্যটক সমাগম বাড়তে শুরু করে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ঈদুল আজহায় খুব কম সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা। আগত পর্যটকদের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা তৎপর রয়েছে।

যশোর থেকে আসা পর্যটক সায়েম-সাহিদা দম্পতি বলেন, “শুক্রবার রাতে কুয়াকাটায় পৌঁছেছি। এখানে পরিবেশ ভালো লেগেছে। সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ জীবনে প্রথম দেখলাম। পাশাপাশি সমুদ্রের গর্জন আমাদের বেশি ভালো লেগেছে।” 

বরিশাল থেকে আসা পর্যটক রুমি, সোহেল ও নাঈম হোসেন জানান, বন্ধুরা মিলে হৈইহুল্লোড় করে সমুদ্রে সাঁতার কেটেছি। বয়া নিয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে মেতেছি। এক দারুন অনুভূতির সঞ্চয় করে হয়েছে সবার।

কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন ভ্যারইটিজ দোকানের মালিক সুলতান আকন বলেন, “এ বছর কুয়াকাটায় খুবই কম সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। আমাদের বেচাবিক্রি খুবই কম। ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহে মোটামুটি ভালোই বিক্রি করেছিলাম। এরপর আর তেমন বেচাবিক্রি হয়নি। ঋণ করে দোকানে মালামাল তুলেছি, পণ্য বিক্রি করতে না পারলে ফের ধার দেনায় পড়তে হবে।”

কুয়াকাটা ফ্রেন্ডস পার্কের ম্যানেজার পারভেজ হোসেন বলেন, “আমাদের হোটেল বীচের খুব কাছে তারপরও মাত্র ৭০ ভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। অনেক হোটেলের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর অর্ধেক পর্যটকের আগমন ঘটেনি।” 

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের ইন্সপেক্টর মো. নাজমুল বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন স্পটে আমাদের টহল টিম কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ স্পটে আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আমরা তৎপর।”