সারা বাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হয়নি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আজ শনিবার (৩০ মে) তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী স্থগিত করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বেলা তিনটায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল।

আয়োজক কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা আপাতত প্রদর্শনী স্থগিত করেছে। তবে শিগগিরই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। তবে এই প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও স্থানীয় কওমী ছাত্র সংগঠনের তীব্র আপত্তি ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। 

চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী নিয়ে আয়োজক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উপদেষ্টা মোহাইমিনুল আজবীন দাবি করেন, “সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজন অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অনুমতিপত্র জমা দিয়েছিলেন। তিনি অনুমতিপত্রটি ফাইলে রেখে অনুমতি দেন।”

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রাক্তন কয়েকজন শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে দেখা করে বলেছিল, তারা রিইউনিয়ন নিয়ে হলরুমে বসে আলোচনা করবে। কিন্তু বিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে- এমন কোনো বিষয় আমাকে জানানো হয়নি এবং আমি কোনো লিখিত অনুমোদন দিইনি।”

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার থেকে জেলার কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীরা সিনেমাটি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা হাফেজ নাসুরুল্লাহ মুয়াজ নিজের ফেসবুকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শনীর ফটোকার্ডে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি, যাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকে।”

শুক্রবার বিকেলে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় জেলার শীর্ষ আলেমদের নির্দেশে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কওমী ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ও জেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আযম কাসেমী।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইসলামবিদ্বেষী ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দিতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। সভায় এই প্রদর্শনী প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় উপস্থিত থাকা এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে কেউ যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পরিস্থিতির অবনতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আলেমদের নির্দেশে আজ শনিবার বাদ জোহর জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ায় শান্তিপূর্ণ সতর্কতামূলক অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আযম কাসেমী বলেন, গতকাল জেলার আলেমরা ও কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের ছাত্রদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক হয়েছে। প্রথমত চলচ্চিত্র, দ্বিতীয়ত ফেসবুকে আল্লামা ফখরে বাঙালকে (তাজুল ইসলাম) (রহ.) নিয়ে একটি পক্ষের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটনা ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি মূলত জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি সামাজিক সংগঠন। এক বছর ধরে ‘ভাতঘুমের সিনেমা আড্ডা’ শিরোনামে চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে আসছিলেন তারা। সংগঠনটি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

সংগঠনটির সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তওজা খন্দকার জানান, তারা গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩) খালেদ হোসেন মাহবুবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সংসদ সদস্য বিষয়টি নিয়ে কওমী ছাত্র ও হুজুরদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের সহায়তা বা সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। তবে সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে পক্ষ করা হয়নি। বিবৃতিতে দ্রুত সময়ে পুনরায় অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।