গেলবারের মতো এবারো ঈদের পর রাজশাহীতে আমের দামে ধস নেমেছে। জেলার সবচেয়ে বড় মোকাম পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর হাটে গুটি জাতের আম দাম কমে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। হাটে হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা মণ।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে বানেশ্বর আমের হাট ঘুরে দেখা যায়, ছোট ট্রাক, পিকআপ ও ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আম আসছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, তারা আমের কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। হাটে লক্ষণভোগ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০, গোপালভোগ ১২০০ থেকে ১৫০০, হিমসাগর বা ক্ষিরসাপাত ১৫০০ থেকে ১৮০০ ও গুটি জাতের আম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা চলছে।
আড়ৎদাররা জানিয়েছেন, গেল ২২ মে বাজারে প্রথম আসা গোপালভোগের দাম মণপ্রতি ২ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে তা কমে ১২০০-১৫০০ টাকায় নেমেছে। গত ১৫ মে থেকে বাজারে আসা গুটি জাতের আমের দাম প্রথমদিকে ১০০০-১৪০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৪০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লক্ষ্মণভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৮০০ টাকায়। গত বছরও ঈদের পর এই দামে বিক্রি হয়েছে আম। শুধু হিমসাগর আমের দামই বেশি।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় এবং পরিবহন ও কুরিয়ার সেবা ব্যাহত হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আম পাঠানো বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ফলে বাজারে চাহিদা কমে গিয়ে দামও নেমে এসেছে।
বাঘার আমচাষি বাবু বলেন, “আমার প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমবাগান রয়েছে। বর্তমানে গুটি আম ৪০০-৭০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচই এই দামে উঠছে না। গেলবারের মতো এবারো লোকসান হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান বলেন, “কোরবানির ঈদের কারণে মানুষ এখন মাংস নিয়ে ব্যস্ত। ফলে আম কেনার আগ্রহ কমেছে। বর্তমান বাজারদরে শ্রমিক, পরিবহন ও বাগান পরিচর্যার খরচ মিটিয়ে লাভ থাকছে না। কম দামে আম বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
আরেক ব্যবসায়ী ইসমাইল আলী বলেন, “ঈদের আগের বাজার বেশ ভালো ছিল। গোপালভোগের দামও বেশি ছিল। এখন হিমসাগর ১৮০০ টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এবার গোপালভোগের দাম পাওয়া গেল না। এবার দাম না পেলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।”
বানেশ্বর হাটে গোপালভোগ কিনতে আসা ব্যবসায়ী মিন্টু সরকার বলেন, “গেল বছরের এই সময়ে গোপালভোগের দাম ছিল প্রায় ২২০০ টাকা মণ। এবার দাম অনেক কম। অন্য আমের দামও বেশ কম। গেল বছর ঈদের পর দাম কমে গিয়েছিল। এবারো তাই হয়েছে।”
হাটের ব্যবসায়ী সাগর বলেন, “প্রতি বছর ঈদের সময় আমের বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দেয়। ছুটি শেষে ঢাকামুখী মানুষ আম কিনতে শুরু করলে চাহিদা বাড়বে এবং পাইকারি বাজারও চাঙা হবে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হলে বাজার আবার স্বাভাবিক হবে।”
বানেশ্বর হাটের ইজারাদার জাকির হোসেন বলেন, “শনিবার থেকে হাটে আম বিক্রি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার হাটবার। আশা করা যায়, এদিন ব্যবসায়ীরা আসবেন আম কিনতে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “মৌসুমে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় অধিকাংশ আমের গাছে মুকুল টিকে গেছে। ফলে উৎপাদন বেড়েছে ও বাজারে সরবরাহও বেশি রয়েছে।”
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রাজশাহীতে এ বছর ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির আমবাগান থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, আগামী ১০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাংগো ও ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম সংগ্রহ করা যাবে। কাটিমন ও বারি আম-১১ পাকার পর সারা বছর সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।