সারা বাংলা

গোপালগঞ্জে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ২৫, বাড়ি ভাঙচুর

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চোর সন্দেহে তিন ব্যক্তিকে আটকের ঘটনায় দফায় দফায় সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এসময় কয়েকটি বাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১ জুন) রাতে উপজেলার ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

গুরুতর আহতরা হলেন- ওহাব গাজী (৬০), জালাল গাজী (৪৫), খলিল গাজী (৪৮), আরিফুল গাজী (৩০), জলিল গাজী (৪৬), ছনিয়া খানম (১৯), মাজেদা বেগম (৪৫), হান্নান বরকতউল্লাহ (৫৫), মুকুল মুন্সী (৪৮), অলি বরকতউল্লাহ (৩৫), তাওসীন বরকতউল্লাহ (৩০), হানিফ শেখ (৪৫), হাবিব মুন্সী (৪২) ও জাহিদুল বরকতউল্লাহ (৩৮)। তাদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক বিরোধী কমিটির সদস্যরা ব্যাটারি চুরির অভিযোগে উপজেলার কাঠিগা গ্রামের মোরসালিন মিয়া, চিতশী গ্রামের রাসেল দাড়িয়া ও ঘাঘরকান্দা গ্রামের আব্দুল্লাহ দাড়িয়াকে আটক করে। তারা তাদের বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক বিরোধী কমিটির কার্যালয়ে আটকে রাখেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কাঠিগা ও চিতশীর গ্রামের লোকজন এসে মাদক বিরোধী কমিটির কার্যালয় ভাঙচুর করে আটকে রাখা তিনজনকে ছিনিয়ে নেয়। এরই জেরে রাতে  ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। এসময় কয়েকটি বাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের মাদক বিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা বলেন, “আমাদের বেপারীপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে মোরসালিন, রাসেল ও আব্দুলাহ এই তিনজন মিলে ব্যাটারি চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এ খবর জানার পরে আমরা এই তিন চোরকে আটক করে আমাদের কার্যালয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেই। পরবর্তীতে কাঠিগা-চিতশীর লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাদের কার্যালয় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ওই তিনজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”

কাঠিগা-চিতশী গ্রামের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা কাউকে মারধর করিনি। আমাদের লোকজনকে তারা মারধর করে আহত করেছে।”

কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, “কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”