নরসিংদী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ঘিরে সক্রিয় দালাল চক্রের কারণে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, আবেদনকারীদের হয়রানি এবং অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে একাধিক ব্যক্তি আবেদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সময়ে পাসপোর্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন। তারা নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বেশি দাবি করছিলেন।
বেলাব উপজেলার নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা আপেল বেগম বলেন, “আমার ছেলের পাসপোর্ট করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে দালানের মাধ্যমে। এলাকার এক ব্যক্তির মাধ্যমে আবেদন করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, নিজে করতে গেলে অনেক ঝামেলা হবে। তাই তার মাধ্যমেই পুরো কাজ করিয়েছি।”
রায়পুরা উপজেলার হাসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা সিহাব অভিযোগ করে বলেন, “আমি কোনো দালালের মাধ্যমে আসিনি। তাই বারবার নতুন কাগজপত্রের কথা বলে ঘোরানো হচ্ছে। নিচের কম্পিউটার দোকানেও পাঠানো হয়েছে। অথচ, দালালের মাধ্যমে আসা লোকজনের কাজ দ্রুত হয়ে যাচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি ও কম্পিউটার দোকান অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে বলে শুনেছি। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের কাছে যাচ্ছে।”
পরিচয় গোপন রেখে পাসপোর্ট অফিসের পাশের একটি কম্পিউটার দোকানে যোগাযোগ করলে দোকান মালিক মশিউর রহমান জানান, সাধারণ নিয়মে আবেদন করলে প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে, তার মাধ্যমে আবেদন করলে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত সেবা পাওয়া সম্ভব বলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দুই থেকে তিন শতাধিক আবেদন জমা পড়লেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি আবেদনে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরাসরি আবেদনকারীদের ফাইলে নানা ধরনের ভুল ধরা হয় কিংবা অতিরিক্ত কাগজপত্রের অজুহাতে ঘুরতে হয়। অন্যদিকে দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হয়।
এদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরসিংদী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক রাসেল আহমেদ শাহীন। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান সমস্যা অফিসের বাইরের একটি চক্র। গ্রামপর্যায় থেকে শুরু করে অফিসের আশপাশ পর্যন্ত কিছু ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকে। এর দায় অনেক সময় অফিসের ওপর বর্তায়। আমরা নিয়মিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
তিনি বলেন, “অনিয়ম বন্ধে আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সেবাপ্রার্থীদের দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি সরকারি নিয়মে আবেদন করার আহ্বান জানাই।”
সচেতন নাগরিকদের মতে, পাসপোর্ট সেবা সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করতে কার্যকর নজরদারি, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা জরুরি। তারা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।