সারা বাংলা

বরগুনায় মা ও ২ মেয়ের লাশ উদ্ধার: নেপথ্যের ঘটনা কী 

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় মা ইতি রাণী তার দুই কন্যাকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে স্বজনরা বলছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

বুধবার (৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ডাকবাংলো থেকে পুলিশ ইতি রাণী, তার দুই কন্যা আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) লাশ উদ্ধা করেছে।  

জেলা পরিষদের সদরের ডাকবাংলোতে আয়ার কাজ করতেন বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি এলাকার দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী ইতি রাণী। প্রতিদিনের মতো বুধবার (৩ জুন) সকালে কাজ করতে আসেন তিনি। সঙ্গে নিয়ে আসেন তার দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস এবং অনুরাধা বিশ্বাসকে। 

বিকালে জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার বাংলোর তিন তলার দুটি রুমের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ পেয়ে জেলা পরিষদকে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে এক রুমে ইতি রাণী ও তার ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের লাশ দেখতে পায়। আরেক রুমের দরজা ভেঙে আরাধা বিশ্বাসের লাশ উদ্ধার করে।

বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিতর থেকে বন্ধ পেয়ে দরজা ভেঙে পৃথক রুম থেকে মা ও দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে। 

প্রাথমিক ধারণা থেকে পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘আমরা লাশের পাশে কিছু ঘুমের ওষুধের খোসা এবং পাঁচটি ঘুমের ওষুধ পেয়েছি। এছাড়া ভিতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছি, এটি আত্মহত্যা।’’ 

তবে স্বজনরা বলছেন, ডাকবাংলোর ঝাড়া-মোছা শেষ করে ঘুরতে নেওয়ার কথা বলে বুধবার (৩ জুন) সকালে দুই মেয়েকে বাসা থেকে নিয়ে আসেন মা ইতি রাণী। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন তারা। 

ইতি রাণীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘পারিবারিক কলহ ছিল না। স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলাম। আত্মহত্যার মতো কারণ ছিল না। আমার স্ত্রী ও সন্তানরা আত্মহত্যা করেনি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’’

ঘটনাস্থলে এসে জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণে জর্জরিত হয়ে দুই মেয়েকে হত্যা করে ইতি রাণী আত্মহত্যা করতে পারেন।  

পটুয়াখালী থেকে সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা করেছেন। আলামত সংগ্রহ করে লাশ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। 

ঘটনার তদন্তের আগেই আত্মহত্যা বলে ধারণা করায় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বজনেরা। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আছে। এই ঘটনার গভীর তদন্তের দাবি করেছেন তারা।