চলছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। এ মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু ফল পাওয়া যায়। এ তালিকায় রয়েছে- আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচু। এ ছাড়াও অন্যতম আরেকটি ভিন্নধর্মী ফল তালের শাঁস। যার নরম অংশটি খুবই সুস্বাদু। দাবদাহেকচি তালের শাঁস এবং এর ভেতরের মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মিটিয়ে শরীরে এনে দেয় আরামদায়ক অনুভূতি।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় তালের শাঁসের চাহিদা বেড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এখন জমজমাটভাবে বিক্রি হচ্ছে এ ফল। গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে অনেকেই তালের শাঁস কিনছেন।
সরেজমিনে মাওনা, বরমী, শ্রীপুর, জৈনা বাজার ও এমসি বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে তালের শাঁস বিক্রি করতে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকছে দোকানগুলোতে।
মাওনা এলাকার তালের শাঁস বিক্রেতা জাহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে প্রচণ্ড গরমের কারণে বিক্রি বেড়েছে। প্রতিটি শাঁস যুক্ত তাল ২০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে। একসঙ্গে বেশি কিনলে কিছুটা কম দামে দেওয়া হয়। একটি তাল থেকে সাধারণত তিন থেকে চারটি শাঁস পাওয়া যায়।”
তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের বাসিন্দা শরিফ বলেন, “পরিবারের জন্য নিয়মিত তালের শাঁস কিনছি। মৌসুমি ফল এবং দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই তালের শাঁস কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী রতন জানান, “গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালের শাঁসের বিক্রিও বেড়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ এ ফল কিনতে আসছেন।”
চিকিৎসকদের মতে, তালের শাঁসে শরীরের জন্য উপকারী বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে এবং হজমেও উপকার করে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিজন মালাকার বলেন, “গরমের সময়ে তালের শাঁস শরীরকে প্রশান্তি দেয়। প্রচণ্ড গরমে কচি তালের শাঁস এবং এর ভেতরের মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মিটিয়ে শরীরে এনে দেয় আরামদায়ক অনুভূতি। পাশাপাশি এটি হজমে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”