লালমনিরহাটের তিনটি উপজেলায় পৃথক তিন সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের তীব্র বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি। ওসব মানুষ জিরো পয়েন্টের ভারতীয় অংশে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ডে পড়ে থাকা এই মানুষগুলোকে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো খাবার বা মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় তাদের সঙ্গে থাকা শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কাঁটাতারের এপাশ থেকে মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশিরা জিরো লাইনে ডেকে তাদের ওষুধসহ জরুরি সহায়তা দিয়েছেন।
বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোর রাতের দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে আটজন নারীসহ ১১ জন এবং পাটগ্রাম উপজেলার পয়ষট্টিবাড়ি সীমান্ত দিয়ে পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন নারীকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। একই সময়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তে আরো ১২ জনের একটি দলের উপস্থিতি দেখা যায়।
দুর্গাপুর সীমান্তে সন্দেহভাজনদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হয়। পরে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়রা একজোট হয়ে সীমান্তে অবস্থান নিলে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
রংপুর ৬১ বিজিবি ও লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা গেছে, পুশইনের শিকার হওয়া এই ৩৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু বর্তমানে কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিজিবির কড়া পাহারার কারণে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করতে পারেননি।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা রহমান মিয়া (৪৫) পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, “ভোর রাত থেকেই পুশইনের ভয়ে আমরা সীমান্তে পাহারা দিচ্ছিলাম। সকাল হওয়ার পর দেখি, কাঁটাতারের ওপাশে জিরো পয়েন্টে ভারতীয় ভূখণ্ডে নারী-শিশুরা খোলা আকাশের নিচে বসে কাঁদছেন। বিএসএফ তাদেরকে ওদিকে যেতে দিচ্ছে না, খাবারও দেয়নি। একটা বাচ্চা গরমে আর না খেয়ে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ওর কান্না দেখে আর সহ্য করতে পারিনি। পরে আমরা কয়েকজন মিলে কাঁটাতারের এপাশ থেকে ইশারায় ডেকে ওদের কিছু জরুরি ওষুধ আর বিস্কুট-পানি এগিয়ে দিয়েছি। মানুষ হিসেবে ওদের এই কষ্ট চোখ দিয়ে দেখা যায় না।”
এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে কড়া নজরদারি ও টহল জোরদার রাখা হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের সঠিক পরিচয় ও নাগরিকত্ব শনাক্ত করার জন্য বিএসএফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।