একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা, অন্যদিকে সীমান্তকেন্দ্রিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয়তা। এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে দিন-রাত কাজ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং সীমান্তবাসী বাংলাদেশিরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় মানবপাচার চক্র অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। জনপ্রতি ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে এসব চক্র বাংলাদেশে প্রবেশের প্রস্তাব দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিজিবির কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন কৌশলে সীমান্ত ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্তে প্রতিদিনই একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।
সর্বশেষ শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর তৎপরতায় তা প্রতিহত করা হয়। পরে ওই ছয় ব্যক্তি ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।
৪৭ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার এবং মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তের প্রায় ৩৬ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয়রাও নজরদারি ও টহল কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেছেন, “সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না। মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, সীমান্তঘেঁষা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় থাকা হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে আনা ব্যক্তিদের জড়ো করা রাখা হচ্ছে। পরে তাদেরকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।