সারা বাংলা

পাবনায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন

পাবনায় বিয়ের দাবিতে ছয় দিন ধরে প্রেমিক তাহজিদ হোসাইনের বাড়িতে অনশন করছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরুণী। তাহজিদ হোসাইন লাপাত্তা রয়েছেন।

প্রেমিকা পাবনার সুজানগর উপজেলার উলাট কাদোয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাহজিদ হোসাইন উলাট মোল্লাপাড়া গ্রামের শফি মোল্লার ছেলে।

তরুণীর বাবা জানান, তার মেয়ের সঙ্গে তাহজিদ হোসাইনের দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তারা অন্তরঙ্গভাবে মেলামেশা করে। গত ৩১ মে রাত ১২টার দিকে তাহজিদ কৌশলে তার ভগ্নিপতি আকিবুল হকের সহযোগিতায় তার বাড়িতে তার মেয়ের সঙ্গে রাত্রিযাপন করে। তারা আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়লে সুকৌশলে তাহজিদ পালিয়ে যায়।

বিয়ের দাবিতে ১ জুন প্রেমিকা প্রেমিক তাহজিদের বাসায় যায়। গভীর রাতে তাহজিদ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তরুণী ওই বাড়িতে অবস্থান করছে।

তরুণীর চাচাত ভাই জানান, ঘটনাটি জানার পর উভয়পক্ষ বসে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় পলিটিক্স এই পরিবেশ বিনষ্ট করছে। তৃতীয় পক্ষ উসকানি দিয়ে বিষয়টি থানা-আদালতে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। 

তাহজিদের মা বিউটি খাতুন ছেলে-মেয়ের প্রেমের সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জমিজমা নিয়ে মেয়ের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরোধ চলে আসছে। প্রেমের সম্পর্ক জানার পর তার ছেলে তাহজিদকে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য তিনি চাপ দেন। কয়েকমাস যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও মেয়ে ফুঁসলিয়ে সুকৌশলে জন্মদিনের কেক কাটার কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে এই ষড়যন্ত্র করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘‘মেয়েটি আমার বাড়িতে এসে উঠলে স্থানীয়দের মধ্যস্থ্যতায় বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। কিন্তু একটি পক্ষ বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।’’  

সুজানগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লালবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। মেয়েপক্ষ সম্ভবত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেহেতু পুরো ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন, তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।