পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার পর নারী-শিশুসহ ১০ জন ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। রোদ-বৃষ্টি আর অনাহারে মানবেতর জীবন কাটালেও এখনো কোনো সমাধান মেলেনি।
শুক্রবার (৫ মে) ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে, বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। এর পর থেকে তারা সীমান্তের ভারতীয় অংশে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
শনিবার (৬ মে) সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন তারা। শুক্রবার দিনে প্রখর রোদে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর রাতে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে তাদের। বৃষ্টির পানিতে মাঠের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বিশেষ করে, শিশু ও নারীরা চরম কষ্টে রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকায় তারা খাদ্য সংকটেও ভুগছেন।
সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ। সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।
সমাধানের লক্ষ্যে শুক্রবার বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। শনিবার দুপুরে দুই বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হয়। ওই বৈঠকেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
বৈঠক শেষে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমরা এভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ কখনোই মেনে নেব না। আমরা বিএসএফকে স্পষ্ট করে বলেছি, তারা যদি বাংলাদেশি হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে তাদের হস্তান্তর করুন। এভাবে ঠেলে দিলে আমরা গ্রহণ করব না।”
তিনি জানান, বৈঠকে বিএসএফ ওই ১০ ব্যক্তিকে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।