সারা বাংলা

গোপালগঞ্জে মেসির ১৬ ফুট ভাস্কর্য, নেইমারের প্রতিকৃতি ঘিরে উচ্ছ্বাস

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে শহর থেকে গ্রামে। গোপালগঞ্জে মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রামেও ফুটবল ভক্তদের এ উন্মাদনা স্পর্শ করেছে। আর্জেন্টিনার ভক্তরা নির্মাণ করেছেন মেসির ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য। পিছিয়ে নেই ব্রাজিল ভক্তরাও। তারা তৈরি করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমারের প্রতিকৃতি। জার্মানির ভক্তরা সে দেশের পতাকায় ছেয়ে ফেলেছেন পুরো এলাকা। 

শুক্রবার (৫ জুন) বিকালে বহুগ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনার সমর্থকরা তাদের প্রিয় তারকা লিওনেল মেসির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে নির্মাণ করছেন ১৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য। এটি নির্মাণ করেছেন প্রভাষ দাস, অলক বিশ্বাস, বাদল মন্ডল ও সজীব বিশ্বাস নামে চার বন্ধু। গত ২২ মে থেকে ছন, বাঁশ, কাঠ ও মাটি দিয়ে ভাস্কর্যের নির্মাণ কাজ শুরু করেন তারা। আগামী ১০ জুন এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। এটি তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। 

স্থানীয় সমর্থকদের উদ্যোগে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটি এরই মধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিন ভাস্কর্য দেখতে আশপাশের গ্রামের মেসি ভক্তরা ভিড় করছেন। তাদের প্রত্যাশা এবারও আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভক্তদের আনন্দে ভাসাবে।

এদিকে, পিছিয়ে নেই সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র ভক্ত ব্রাজিলের সমর্থকেরা। ইতোমধ্যে তারাও স্থাপন করেছে নেইমারের বিশালাকৃতির প্রতিকৃতি। বহুগ্রাম বাজারে টাঙ্গানো হয়েছে ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রাজিলের পতাকা। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশ করতেই তারা এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছেন বলে জানান। 

শুধু আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল নয়, টাঙ্গানো হয়েছে জার্মানি ও স্পেনের পাতাকাও। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শুধু ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না আয়োজন। খেলা উপভোগের জন্য বড় পর্দায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে ম্যাচ সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। পাশাপাশি দর্শকদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টের আয়োজন রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যেই নয়, পুরো এলাকার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।  

প্রভাষ দাস বলেন, ‘‘মেসি শুধু ফুটবলার নন, তিনি আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক। তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই আমরা এই ভাস্কর্য নির্মাণ করছি। আমরা মেসির ভাস্কর্যের সামনে বসে খেলা দেখব এটাই হলো আনন্দ।’’

সুধাংশু মজুমদার বলেন, ‘‘ব্রাজিলকে সমর্থন দিতে আমরা ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের পতাকা টাঙ্গিয়েছি। যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ পতাকা ও নেইমারের প্রতিকৃতি দেখতে ভিড় করছেন। এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয় তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।’’

আয়োজকদের একজন কল্লোল বিশ্বাস বলেন, ‘‘ফুটবল আমাদের আবেগের জায়গা। বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে আমরা নেইমারের প্রতীক ও বিশাল পতাকা তৈরি করেছি। এলাকার মানুষ আমাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।’’