সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এমভি আব্দুল হাকিম-১ নামে একটি কার্গো জাহাজে গুলি ও লুটপাট চালিয়েছে বনদস্যুরা। পাশাপাশি আরো চারটি জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) রাতে সুন্দরবনের শিবসা নদী পার হয়ে শিংয়েরনালা নামক স্থানে ঘটনাগুলো ঘটে।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান জানান, বিষয়টি শুনেছেন। কোনো অভিযোগ পাননি।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন বলেন, “কোন দস্যু বাহিনী হামলার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।”
ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রেটোকলের অধিনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা, শিবসা নদী দিয়ে ভারতে যায় নৌযানগুলো।
আক্রান্ত জাহাজগুলো হচ্ছে- এমভি খারেহেরা, এমভি বয়রাতলা, এমভি আ. হাকিম, এমভি আরিয়ান ছালাম ও এমভি আব্দুল হাকিম-১।
বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রোটকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “জাহাজগুলো খালি ছিল। জাহাজগুলো ভারতে থেকে ফ্লাইঅ্যাশ (সিমেন্ট তৈরির কাচামাল) আনতে যাচ্ছিল। শনিবার বেলা ২টার দিকে জাহাজগুলো মোংলা দিয়ে ভারতের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। শেখবাড়িয়া থেকে মাত্র আধা ঘন্টার দূরত্বে থাকার সময় ডাকাতরা হানা দেয়।”
তিনি বলেন, “শিপসা নদীর পাড়ি দিয়ে শিংয়ের নালাখালের ভেতর ঢুকামাত্র ডাকাত দল ধাওয়া করে। সামনে থাকা চারটি জাহাজ এগিয়ে গেলেও সবার পেছনে ছিল এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহাজ। সেটিতে উঠে পড়ে ডাকাতরা। তারা জাহাজে উঠেই স্টাফদের মারধর শুরু করে। পরে মাস্টার ব্রিজে গিয়ে অন্তত ১৫ রাউন্ড গুলি করে।”
এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহারের ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবী বরাতে সিরাজুল ইসলাম বলেন, “শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনা ঘটে। ট্রলারযোগে আসা আনুমানিক ১০-১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাত বাম পাশ থেকে জাহাজের উপরে ওঠে। তারা নিচে থাকা স্টাফদের অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে ও মারধর করে। টের পেয়ে তাৎক্ষণিক মাস্টার ব্রিজের সব গেইট আটকে দেয়। ডাকাতরা মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে গেটের দরজায় ১৫-২০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি করে। তারা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে জাহাজে অবস্থান করে। স্টাফদের মোবাইল, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।”
নৌযান শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “এমন ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ-ভারত রুটে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা চাই। এমন ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই পথে আর চলতে চাই না।”
তিনি বলেন, “আমাদের জাহাজ জোয়ার ভাটা হিসাব করে চালাতে হয়। নদীতে আমাদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তা না হলে ভারত-বাংলাদেশ এই পথে আমাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে হবে।”