প্রায় তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক বাক প্রতিবন্ধী যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) রকিবুল আক্তার বলেন, “আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করে যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। মানবিক উদ্যোগ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়েছে, যা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।”
পিবিআই সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কিসমত আমোদাবাদ গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৬) প্রায় তিন বছর আগে নিখোঁজ হন। বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি নিজের পরিচয় বা ঠিকানা কাউকে জানাতে পারছিলেন না। প্রায় এক বছর আগে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে কান্নারত অবস্থায় শফিকুলকে দেখতে পান স্থানীয় ব্যবসায়ী শরিফুল আলম। যুবকটি কথা বলতে না পারায় মানবিক বিবেচনায় শরিফুল আলম তাকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন এবং নিয়মিত দেখাশোনা করতে থাকেন।
এ সময় বিভিন্ন মাধ্যমে যুবকের পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা চালালেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা এড়াতে গত ৩ জুন শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শরিফুল আলম। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, পিবিআই প্রযুক্তিগত সহায়তায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম। সেই সূত্র ধরে গত ৮ জুন তিনি শফিকুলকে নিয়ে গাজীপুর পিবিআই কার্যালয়ে যান।
পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন ইউনিটের পরিদর্শক শাহ কামাল ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) জামিল উদ্দিন রাশেদ বিশেষ পরিচয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যুবকের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করেন। পরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, প্রায় তিন বছর আগে শফিকুল নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় তারা স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন।
সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার (১০ জুন) বিকেলে শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় আশ্রয়দাতা শরিফুল আলমের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শফিকুলকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এসআই জামিল উদ্দিন রাশেদ জানান, পরিবারের সদস্যদের ফিরে পেয়ে শফিকুল সংকেত ভাষায় নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন পর মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।