জুম্ম নারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধ এবং কল্পনা চাকমার অপহরণের বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বান্দরবানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নেরও জোর দাবি জানান।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বান্দরবান প্রেসক্লাবে সামনে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের বান্দরবান জেলা কমিটির ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুমিল্লার তনু হত্যার বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর অবশেষে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অথচ তিন দশক পেরিয়ে গেলেও কল্পনা চাকমার অপহরণের সুবিচার আজও আমরা পায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদেরকে মানুষ মনে করে না বলেই বিচারহীনতা সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান।
বক্তারা আরো দাবি করেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনসংখ্যা কাঠামো অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাকিস্তান আমলে বাঙালি ১.৫ শতাংশ ছিল, স্বাধীনতার পর ১০-১২ শতাংশ ছিল। বর্তমানে ৫৪ শতাংশ হয়ে গেছে। এটা স্বাভাবিক পরিবর্তন নয়। এটা জনসংখ্যা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারির করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে জন ত্রিপুরা বলেন, কল্পনা চাকমা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তাকে অপহরণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ থামানো যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না। আজকের এই দিনে অপহরণ করা হয়েছিল কল্পনা চাকমাকে।
মহিলা সমিতির নেত্রী উমেসিং মার্মা বলেন, একজন কল্পনা চাকমাকে দমিয়ে রাখা গেলেও পাহাড়ে হাজারো কল্পনা চাকমা রয়েছে। পাহাড় যতদিন থাকবে, ততদিন তার স্মৃতি ও সংগ্রাম মানুষের মনে কল্পনা চাকমা থাকবে।
ওলিসিং মার্মার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন জনসংহতি সমিতির বান্দরবান শাখার ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক থোয়াক্যসাইন চাক, উশেহ্লা মার্মা ও এনুং মার্মা।