পদ্মা ও কালনা মধুমতি সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা-কালনা-যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। মহাসড়কের ভাটিয়াপাড়া-যশোর-বেনাপোল অংশ সরু হওয়ায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত আড়াই বছরে এই মহাসড়কে ৭৫টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫০ জন।
দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত মহাসড়কটি চারলেনে উন্নীত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চারকরা।
শুক্রবার (১২জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পর কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত সরু। এই সড়কেই প্রতিদিন চলাচল করছে অসংখ্য বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।
নড়াইলের তুলারামপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, “পদ্মা ও কালনা মধুমতি সেতু চালুর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে ছোট বড় মিলিয়ে ৭৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ২৫০ জন। তাদের অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা-মাওয়া-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের কালনা এলাকায় মধুমতি নদীর ওপর দেশের প্রথম ছয়লেন বিশিষ্ট কালনা মধুমতি সেতু উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে ঢাকা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত যানবাহন এই রুট ব্যবহার করছে। সেতুর সংযোগ সড়ক আধুনিক ও প্রশস্ত হলেও কালনা-নড়াইল-যশোর-বেনাপোল অংশের মূল সড়ক আগের মতোই সরু রয়েছে।
সড়কে প্রশাসনের লাগানো ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ লেখা সাইনবোর্ড
বাসচালক পটু শিকদার বলেন, “ওভারটেকিং কিংবা ক্রসিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে অথবা অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সড়কটির এই অংশ চারলেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না।”
নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান বলেন, “পদ্মা ও মধুমতি সেতুর কারণে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ার কথা ছিল। রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় সেই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত পথচারী, যাত্রী ও পরিবহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত করার দাবি জানাই।”
নড়াইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, “ভাটিয়াপাড়া-যশোর-বেনাপোল সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এর প্রস্থ মাত্র ২৪ ফুট। পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাও বাড়ছে। দুর্ঘটনা কমাতে প্রয়োজনীয় সাইন-সিগন্যাল ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে সড়কটি স্থায়ীভাবে প্রশস্ত করার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”