সারা বাংলা

তিনদিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় ১২ জন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফ-এর পুশইনের শিকার হওয়া ১২ জন তিনদিন ধরে সীমান্ত শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। প্রখর রোদ ও গরমে শিশুসহ নারী-পুরুষ পাট ক্ষেতের আইলে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। সেইসঙ্গে তারা এখন কোন দেশের ভূখণ্ডে যাবেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ইতোমধ্যে শিশু ও নারীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনটি পরিবারের ১২ জন সদস্যের পুশইনের বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তিনদিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন তারা। মানবিক দিক বিবেচনায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তাদের সাধ্যমতো খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশি বা ভারতীয় যাই হোক দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা উচিত।

এ ঘটনায় শনিবার (১৩ জুন) দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার ১১ বিএসএফ কমান্ডেন্ট অধীনস্থ রানীনগর বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদব এবং বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর সহকারী পরিচালক মো. নুরুল হুদা।

পতাকা বৈঠকে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে পুশইনের ঘটনা অস্বীকার করা হয় এবং সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা শিশু ও নারী- পুরুষসহ ১২ জনের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত ও যাচাই শেষে পরবর্তীতে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক।

বিজিবি সূত্র জানায়, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একইসঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  এ সময় বিজিবি প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি নিয়ে সময় চেয়ে তদন্ত করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাতে চেয়েছে। ফলে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শিশুসহ ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হবে বলে জানানো হয়।

এদিকে সীমান্তে বিজিবির জনবল বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ১৪৯ সীমান্ত পিলার সংলগ্ন দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের চরবিলগাতুয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধ ও তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর তারা ১৪৮/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন প্রাগপুর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়। বর্তমানে তারা সেখানেই রয়েছেন। তবে তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, শনিবার বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সময় চেয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।