ওমরা হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ফেনীর পরশুরামের হেদায়েতুল ইসলাম (৬৫)। প্রায় তিন বছর তিন মাস দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার সেই ফেরা শেষ পর্যন্ত জীবনের শেষ যাত্রাই হয়ে থাকল। দেশে ফেরার এক মাসের মাথায় সোমবার (১৫ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হেদায়েতুল ইসলাম মারা যান।
হেদায়েতুল ইসলাম ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামের বাসিন্দা। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যান হেদায়েতুল ইসলাম। মক্কায় কয়েক দিন অবস্থানের পর ১২ ফেব্রুয়ারি মদিনায় ফজরের নামাজের সময় অসুস্থ হয়ে মসজিদে পড়ে যান তিনি। পরে তাকে মদিনার কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, প্রথমে কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী তিন বছর তিন মাস সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অধিকাংশ সময় তিনি অচেতন ছিলেন।
স্বজনেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হেদায়েতুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছিল। সর্বশেষ তার মেজো ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ হজ মিশন এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় গত ১৩ মে বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে আনার পর হেদায়েতুল ইসলামকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সোমবার সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
হেদায়েতুল ইসলামের প্রতিবেশী আবুল কালাম বলেন, “একদম সুস্থ অবস্থায় তিনি ওমরা করতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন সৌদি আরবের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা নানা চেষ্টা করেও তাকে দেশে আনতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সরকারের সহযোগিতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও আর সুস্থ হয়ে তার বাড়ি ফেরা হলো না।”
মৃতের ছেলে আল শাহাদাত মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, “তিন বছরের বেশি সময় পর আমরা বাবাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম। আশা ছিল, তিনি সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসবেন। সেই আশা পূরণ হলো না। সবার কাছে বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।”