ক্যাম্পাস

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে ভারতের রাজ্যগুলোতে  

সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ কমে আসায় ভারতের কয়েক রাজ্য সরকার তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দেশব্যাপী ভ্যাকসিন কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় রাজ্যেগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে শিক্ষামন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

প্রথম অবস্থায় খুলছে গুজরাট ও হরিয়ানার বিদ্যালয়গুলো। পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলবে এই দুই রাজ্য। এর আগে বিহার রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা জানানো হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই সংবাদ জানানো হয়েছে।

হরিয়ানার শিক্ষামন্ত্রী কানওয়ারলাল গুর্জার বলেন, রাজ্যে শর্তসাপেক্ষে স্কুল খোলা হচ্ছে। প্রথমে নবম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল খুলবে। চলতি মাসের ১৬ তারিখ থেকে ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে। ক্লাসগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অন্য শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রমও শুরু হবে।

গুজরাটেও শর্ত সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে। জানানো হয়েছে রাজ্যে শুধু দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হবে, পর্যায়ক্রমে বাকিদেরটা শুরু করা হবে। ১৫ জুলাই থেকে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি। তবে দ্বাদশ শ্রেণিতে শুধু ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীই ক্লাসে বসার অনুমতি পাবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের জন্য কলেজ খুলবে ১৫ জুলাই থেকে। এক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৫০ শতাংশ।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, স্কুল ও কলেজে আসার বিষয়টি নির্ভর করবে শিক্ষার্থীদের ওপর। তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। দুটি রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরা, স্যানিটাইজেশনের মতো করোনা বিধি পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিহারে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান শুরুর কথা জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও  সরকারি কলেজগুলো শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে। তবে শুধু ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়েই একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে। শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে জড়িত কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের দ্রুতই টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিপদ এখনো কাটেনি। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের প্রকোপ রুখতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন ও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। এরই মধ্যে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় গুজরাট ও হরিয়ানায় স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।