ক্যাম্পাস

জিসান পেলেন শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড 

‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২০’ পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মুহতাসিম আবশাদ জিসান। তাকে চলমান করোনা সংকট মোকাবিলায় মানবতার সেবায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। 

তরুণদের ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে একক ও দলীয়ভাবে মোট ১০০ জনকে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর নামে এই পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।  ৩ হাজার ৫০০ প্রার্থীর আবেদনের মধ্য থেকে ১০টি ক্যাটাগরিতে ১০০ জন বিজয়ীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। 

২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর কতিপয় স্বপ্নবাজ তরুণের হাত ধরে পথচলা শুরু হয় চলো স্বপ্ন ছুঁইয়ের। ৩০ জন সদস্য নিয়ে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে উত্তরবঙ্গের সাতটি জেলায় ৪৫০ এর অধিক সদস্য রয়েছেন। এসডিজির পাঁচটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করে চলো স্বপ্ন ছুঁই। তবে অন্যান্য সময়ের পাশাপাশি করোনার শুরু থেকে সম্মুখ সমরে নেমে পড়ে ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’-এর সৈনিকেরা। 

ত্রাণ কার্যক্রম দিয়ে শুরু হলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়াতে সারা শহরে জীবাণুনাশক স্প্রে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দোকানপাটের সামনে নিরাপদ দূরত্বের সুরক্ষা ছক অঙ্কন, দেয়াল লিখন পোস্টারিং ইত্যাদির পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে পথচারীদের মাঝে নিয়মিত মাস্ক, স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ ইত্যাদি বিতরণ করেন তারা। সেইসঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন এবং বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ, রেস্টুরেন্টের ওয়াশরুমে স্যানিটারি ন্যাপকিন বক্স স্থাপন করে চলো স্বপ্ন ছুঁই। এছাড়াও, করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া ৪৫০০ এর বেশি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে তারা।

করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করতে ‘স্বপ্নপূরণ’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করে সংগঠনটি, যা এখনো চলমান। এর মাধ্যমে কর্মক্ষম মা-বোনদের সেলাই মেশিন, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি প্রদানের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহযোগিতা করছে ‘চলো স্বপ্ন ছুঁই’। এখন পর্যন্ত ৭৫ জন নারীকে সেলাই মেশিনসহ শতাধিক পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পেরেছে এই সংগঠনটি।

জিসান বলেন, ‘আমার সংগঠনের সহযোদ্ধারা সঙ্গে না থাকলে আমার এই অর্জন সম্ভব হতো না। এই অর্জন আমার একার নয়, আমার এই অর্জন সংগঠনের সহযোদ্ধাদের। সেইসঙ্গে যেসব শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাদের সবসময় সহযোগিতা করেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

তরুণ এই স্বেচ্ছাসেবক রংপুরের পীরগাছা উপজেলার স্বনামধন্য ডাক্তার পরিবারের মরহুম ডা. সামসুল হকের নাতি এবং আবু হেনা মো. শাহনেওয়াজ ফুয়াদের বড় ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর, ২০২১) ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ‘ঢাকা ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল ২০২০’-এর অধীনে প্রথমবারের মতো এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাম্বাসেডর হিসেইন ইব্রাহিম তাহা, মালদ্বীপের যুব, ক্রীড়া মন্ত্রী আহমেদ মাওলুফ, রাশিয়ার যুব বিষয়ক ফেডারেল এজেন্সির প্রধান সেনিয়া রাজুভায়েভা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রর যুব মন্ত্রী তিমুর আয়হানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।