সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েছে গবেষণা ও গবেষকদের সংখ্যা। ‘এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স-২০২৩’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ জন গবেষক।
(৩০ জুন) এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্সের ওয়েবসাইটে ১২টি ক্যাটাগরিতে বিশ্বের ২১৮টি দেশের ২১ হাজার ৯৭৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৫২ জন গবেষকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ১৮০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ হাজার ১৬৫ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। এতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন বিভাগের ৩০ জন শিক্ষক ও পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. বাদশা আলম জায়গা পেয়েছেন।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তালিকায় স্থান পাওয়া ৩১জন গবেষকের মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছেন পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁন। এছাড়া যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তানজিল হোসেন এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।
এর আগে ২০২১ সালে প্রকাশিত তালিকায় দেশের মোট এক হাজার ৭৮৮ জন গবেষকের মধ্যে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং ২০২২ সালে দুই হাজার ৭৭২ জনের মধ্যে ১৪ জন গবেষক স্থান পেয়েছিলেন। সংখ্যার দিক দিয়ে এবছরই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সংখ্যক গবেষক অ্যালপার ডগার (এডি) সায়েন্টিফিক ইনডেক্স কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের থেকেও বেশি।
তালিকায় স্থান পাওয়া পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. বাদশা আলম বলেন, আমার গবেষণা কাজকে মূল্যায়ন করার জন্য প্রথমেই ধন্যবাদ দিতে চাই এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স কর্তৃপক্ষকে। জীবনের সব অর্জনই অনেক আনন্দদায়ক, আর সেটি যদি হয় গবেষণা সম্পর্কিত তাহলে আনন্দটা আরো দ্বিগুণ হয়ে যায়। সত্যিই খুব আনন্দিত আমি ইনডেক্সের তালিকায় আমার নাম দেখে। আমার সব অর্জন আমার বিভাগের সকল সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দকে উৎসর্গ করছি, যারা আমাকে গবেষণা কাজে উৎসাহ প্রদান করেছেন। বিশেষ করে ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁন স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাকে প্রতিটি মুহূর্তে উৎসাহ প্রদান করার জন্য।
আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান (নিউটন) বলেন, আমি অত্যন্ত খুশি। বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় স্থান পাওয়া সত্যিই অনুপ্রেরণার। এই অনুপ্রেরণা আমাকে আরও ভালো করার শক্তি যোগাবে।
তালিকায় নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকা পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁন বলেন, তালিকায় স্থান পেয়ে আমি আনন্দিত। যদিও এই তালিকার কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। আসলে এটিকে বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকা না বলাই শ্রেয়। এটি মূলত যেসকল গবেষকদের গুগল স্কলার একাউন্ট আছে তাদের তালিকা প্রকাশ করে। অনেক দক্ষ ও বয়স্ক গবেষক আছে, যাদের গুগল স্কলার একাউন্ট নেই। তারা প্রতিনিয়ত গবেষণা করে গেলেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় না। অনেকে নামমাত্র ২/১টি গবেষণা করেও গুগল স্কলার একাউন্ট থাকায় তালিকায় স্থান পান। আবার অনেক সময় এমন হয় যে, অন্য কোনো গবেষকের নাম কারো সঙ্গে মিলে গেলেও তার প্রোফাইলে ওই গবেষণাকর্মও যুক্ত হয়। দেখা যায়, একজন বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন কিন্তু তার নামের সঙ্গে অন্য আরও ৫ জনের নামের মিল থাকায় ওই ৫ জনের গবেষণাকর্মও তার প্রোফাইলে যুক্ত হয়ে যায়। এতে করে অনেকে ২/১টা গবেষণা করেই তালিকায় স্থান পায়। এক কথায় বলতে গেলে গুগল স্কলারে একাউন্ট থাকলেই গবেষক হিসেবে তার নাম তালিকায় আসবে।
উল্লেখ্য, ‘এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স’ গুগল স্কলারের রিসার্চ প্রোফাইলের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের বিগত পাঁচ বছরের গবেষণার এইচ ইনডেক্স, আইটেন ইনডেক্স ও সাইটেশন স্কোরের ভিত্তিতে র্যাংকিং প্রকাশ করে থাকে।