নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া গবেষকরা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পিএইচডি ফেলোশিপ ২০২৪ (জুলাই- ডিসেম্বর) ও ২০২৫ (জানুয়ারী-জুন) এর জন্য আবেদন করতে পারবে। ফেলোশিপ বাবদ মাসিক ভাতা হিসেবে ৪০ হাজার টাকা পাবেন তারা।
শুক্রবার (৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধরিত আবেদনপত্র নোবিপ্রবির ওয়েবসাইট থেকে যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী ১৫ মার্চ এর মধ্যে নোবিপ্রবি রিসার্চ সেল অফিসে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির প্রমাণপত্র, সব পরীক্ষার সনদের ফটোকপি, সম্প্রতি তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, গবেষণার একটি রূপরেখা (রিসার্চ প্রপোজাল), যা সুপারভাইজার কর্তৃক সত্যায়িত করে দিতে হবে।
ফেলোশিপ প্রোগ্রামে আবেদনের যোগ্যতা ও শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, শুধু নোবিপ্রবিতে ভর্তি হওয়া পূর্ণকালীন পিএইচডি গবেষকরাই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের সুপারভাইজার প্যানেলের অনুমোদন থাকতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে, তারা অন্য কোন উৎস থেকে ফেলোশিপ নিচ্ছেন না। চাকরিরত প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং পাবলিকেশন রেকর্ডের ভিত্তিতে ফেলোশিপ প্রদান করা হবে।
চাকরিরত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষা ছুটি প্রাপ্ত পিএইচডি গবেষকরাই ছুটিকালীন সময়ের জন্য ফেলোশিপের জন্য বিবেচিত হবেন এবং সপ্তাহে অন্তত ১০ ঘণ্টা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে হবে। একাধিক উৎস থেকে রিসার্চ গ্রান্ট বা ফেলোশিপ গ্রহণ করা যাবে না। অন্যথায় প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে। ফেলোশিপ চলাকালে কোন চাকরিতে যোগদান করলে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দিতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক গ্রান্ট হওয়ায় মনিটরিং কমিটির অনুমোদনক্রমে গবেষণা অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী বছরের ফেলোশিপ দেওয়া হবে।
ফেলোশিপের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩ বছর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পিএইচডি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য ফেলোশিপ প্রদান করা হবে না।
ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে, মাসিক ফেলোশিপ ভাতা ৪০ হাজার টাকা, গবেষণার জন্য বরাদ্দ (বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায় শিক্ষা, সমাজবিজ্ঞান, মানবিক, শিক্ষা ও আইন বিভাগ বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা)। এই অর্থ কম্পিউটার বা ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী ক্রয়ে ব্যবহার করা যাবে না।
এছাড়াও দেশীয় কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ও আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। উপস্থাপনা অবশ্যই পিএইচডি গবেষণার অংশ হতে হবে। থিসিস বাইন্ডিং খরচ বাবদ চূড়ান্ত বর্ষে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে মনিটরিং কমিটি ও গবেষণা অগ্রগতি মূল্যায়নের বিষয়ে বলা হয়েছে, প্রতি ৬ মাস অন্তর গবেষণা অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রথম বছরে গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরি ও একটি রিভিউ আর্টিকেল প্রকাশ করতে হবে। দ্বিতীয় বছরে ডাটা অ্যানালাইসিস সম্পন্ন করে নোবিপ্রবির নির্ধারিত জার্নালে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হবে। শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য ফেলোশিপ বাতিল হবে।