ক্যাম্পাস

নবীনদের বরণ করে নিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের পাঁচ অনুষদের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছে প্রশাসন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ইবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড.  জাহাঙ্গীর আলম। 

এ সময় রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার তৌহিদুল আনাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাবলী সাবিনা আজহার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রভাষক হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রথম দিনের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও  অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি।

অনুষ্ঠানে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় 'এ’ ইউনিটে সপ্তম স্থান অধিকারকারী মাহমুদ মোস্তাক ফরহাদ ও ‘বি’ ইউনিটে তৃতীয় স্থান অধিকারকারী হাসনাত মাওলা চৌধুরীকে পুরস্কৃত করা হয়। 

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, “কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। যারা কঠোর পরিশ্রম করতে জানে না, তারা সফলতাকে ছুঁতে পারে না। তোমার ঘর হবে শ্রেণিকক্ষ, তোমার ভালোবাসার মানুষ হবে শিক্ষক, তোমার সবচেয়ে বড় সম্মানিত মানুষ হবে তোমার শিক্ষক এবং তোমার সবচেয়ে নিরাপদ ও জ্ঞানের চর্চার জায়গা হবে তোমার লাইব্রেরি। তোমার সময় কাটবে এই তিনটি অঙ্গনে। এর বাইরে সময় কাটালে তুমি ব্যর্থ হবে।”

তিনি বলেন, “আমি যতদিন উপাচার্য হিসেবে আছি, আমার সব কাজ, পরিশ্রম তোমাদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত হবে। এর মাধ্যমে আমরা উন্নত বাংলাদেশ গড়ব।”

নবীনদের উদ্দেশ্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএম এ ফায়েজ বলেন, “তোমাদের দিকে তাকিয়ে আমার আশা জাগে। তোমরা এমন কিছু অর্জন করেছ, যা আমরা বা আমাদের বন্ধুরা, সহকর্মীরা পারেনি। তোমরা তোমাদের নিজেদের তৈরি করেছ, তাই বলছি, হারিয়ে যেও না। সুন্দরভাবে দেশের দিকে তাকাও, সুন্দর দেশ উপহার দাও, তোমাদের মেধা নিয়ে এগিয়ে যাও।”

তিনি বলেন, “আমি যখন ছাত্র ছিলাম, তোমাদের বয়সী ছিলাম, তখন কিন্তু তোমাদের মতো এত সুযোগ বা প্রস্তুতি আমাদের ছিল না। তোমাদের চোখের সামনে বিশ্ব প্রতিদিন নতুন করে তৈরি হচ্ছে, তোমাদের আগুনের দাতার নিচেই এই বিশ্ব নতুন করে রূপ নিচ্ছে। এজন্য তোমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।”

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যখন আপনারা শিক্ষাদান করবেন, তখন আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনার সামনে যে ছাত্রটি বসে আছে, আপনিও একদিন তাদের মতোই এই বেঞ্চে বসে ছিলেন। আপনাদের যতটুকুই ক্ষমতা থাক, আপনারা সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করবেন।”

ধর্মীয়গ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিথি ও নবীনদের ফুল ও ব্যতিক্রম সাংস্কৃতিক জোটের পরিবেশনায় গানের মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক তথ্য সম্বলিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।