ক্যাম্পাস

মাহদীর মুক্তিসহ তিন দফা দাবি, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি, হবিগঞ্জ সদর থানার ওসির প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবি ও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ।

তিনি বলেন, “জুলাই–আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত। ছাত্র-জনতার বৈপ্লবিক প্রতিরোধই ছিল ন্যায্য আন্দোলন, অথচ তাদের ওপর চালানো দমন-পীড়ন ছিল চরম অন্যায়। মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের পেছনে ‘ইন্টারনাল প্রেসার’-এর কথা বলা হলেও প্রশ্ন থেকে যায়, এই চাপ আসছে কোথা থেকে।” ঘোষিত দায়মুক্তি অধ্যাদেশ কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিফাত রশিদ জানান, আগের দুই দফা দাবির আংশিক বাস্তবায়ন হলেও মাহদীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি। ফলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—এক. মাহদী হাসানের নিঃশর্ত মুক্তি ও হবিগঞ্জ সদর থানার ওসির প্রত্যাহার; দুই. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সকল কর্মকাণ্ডের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি; তিন. জুলাই অভ্যুত্থানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ভূমিকার স্বীকৃতি, আইনি সুরক্ষা ও হয়রানি বন্ধে স্থায়ী কমিশন গঠন।

নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থানার ওসি, এসপি ও সংশ্লিষ্ট কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা করে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে।

সংগঠনের মুখপাত্র সিনথীয়া জাহিন আয়েশা বলেন, “মাহদী হাসানকে তুলে নিয়ে গিয়ে পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং সাজানো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জামান সুরভীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংগঠনটি আপসহীন থাকবে বলে জানান তিনি।