জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) স্টাফ বাসে করে ক্যাম্পাসে আসার সময় তিন নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক খন্দকার হাবিবুর রহমান।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে বাসটি ক্যাম্পাসে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন—চিটাগাং রোড থেকে আসা একাউন্টিং বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম হিমাদ্র, কাজলা থেকে আসা আইইআর বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মিতু আক্তার এবং শনির আখড়া থেকে আসা দর্শন বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, নিয়মিত শিক্ষার্থী বাস মিস করায় তারা স্টাফ বাসে ওঠেন। এ সময় বাসে থাকা এক কর্মকর্তা তাদের আইডি কার্ড দেখতে চান এবং কার্ডের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি লোকাল বাসে চলাচলের কথা বলে স্টাফ বাসে ওঠা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান বলেন, “স্টুডেন্ট বাস মিস করায় আমরা স্টাফ বাসে উঠেছিলাম। উনি আমার পরিচয় জানতে চান এবং আইডি কার্ড দেখে বলেন, এই কার্ডের কোনো মেয়াদ নেই, ভবিষ্যতে যেন এই বাসে না উঠি। আরেক আপুর আইডি কার্ড প্রায় পাঁচ মিনিট নিজের কাছে রেখে দেন।”
একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম হিমাদ্র বলেন, “উনি বলেন আমি নাকি প্রতিদিন এই বাসে উঠি। আমি বলার পরও যে আজ প্রথম উঠেছি, তিনি বলেন—লোকাল বাসে ভাড়া দিয়ে আসতে, এই বাস আমাদের জন্য না।”
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিকল্প বাসে উঠতে হয়। সে ক্ষেত্রে এমন আচরণ অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জকসুর আইন সম্পাদক হাবিব মোহাম্মদ ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছু কর্মকর্তা স্টাফ বাসকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, “বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকা উচিত। কেউ যদি এ ধরনের দুর্ব্যবহার করে থাকেন, তার শাস্তি হওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে খন্দকার হাবিবুর রহমান বলেন, “স্টাফ বাসে সিট সংকটের কারণে পরিচয় যাচাই করতে আইডি দেখতে চেয়েছি। তবে কার্ড নিয়ে নেওয়া, উচ্চস্বরে কথা বলা বা হেনস্তার অভিযোগ সঠিক নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক জানান, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।