ক্যাম্পাস

রাবি ভর্তি পরীক্ষা: কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা, উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা

দীর্ঘ এক যুগের স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ—ভর্তি পরীক্ষা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে কঠোর প্রস্তুতির পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ‘সি’ ইউনিট তথা বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ ভর্তিযুদ্ধের শুরু হয়। পরীক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষাকক্ষে ব্যস্ত, তখন বাইরে উৎকণ্ঠা, দোয়া আর অপেক্ষায় সময় কাটাচ্ছেন তাদের অভিভাবকরা।

সকাল থেকেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে রাবি ক্যাম্পাস। অ্যাকাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, প্যারিস রোড, কেন্দ্রীয় মসজিদ, লাইব্রেরি, পরিবহন চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, আমতলা ও বিজ্ঞান ভবনের সামনে অভিভাবকদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। শীতের কনকনে বাতাস উপেক্ষা করে কেউ মাদুর পেতে বসে আছেন, কেউ গাছের ছায়ায় পত্রিকা বা বই পড়ছেন, কেউ কোরআন তেলাওয়াত করে সন্তানের সাফল্যের জন্য দোয়া করছেন। সবার চোখেমুখেই উৎকণ্ঠার ছাপ।

ময়মনসিংহ থেকে আসা অভিভাবক মনসুর আলী বলেন, “সারারাত জার্নি করে সকালে এখানে এসেছি। মেয়েটা খুব ক্লান্ত। জানি না কেমন পরীক্ষা দিচ্ছে—এই চিন্তাই বেশি।”

দিনাজপুর থেকে আসা এক অভিভাবক বলেন, “একমাত্র ছেলের পরীক্ষা। গতকাল থেকেই এখানে আছি। সন্তান পরীক্ষা দিতে ঢোকার পর মনে হচ্ছে, এই পরীক্ষা যেন আমিই দিচ্ছি।”

পাবনা থেকে আসা অভিভাবক অধ্যাপক আবদুস সোবহান হোসেন বলেন, “আজ সকালে ছেলেকে নিয়ে রাজশাহীতে এসেছি। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যায় পড়িনি। ক্যাম্পাসে অনেক হেল্প ডেস্ক আছে, সেখান থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি। ছেলের প্রস্তুতি ভালো হলেও চিন্তা থেকেই যায়। আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।”

ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহায়তায় রাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করেছে। সিনেট ভবনের পাশে রাকসু, টুকিটাকি চত্বরে ইসলামী ছাত্রশিবির, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস এবং পরিবহন চত্বরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের বুথ দেখা যায়। এসব হেল্প ডেস্কে বসার ব্যবস্থা, খাবার-পানীয়, কলম, ওষুধ, নারীদের নামাজের স্থান ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছাতে। রাবিসহ ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল কেন্দ্রে আমাদের হেল্প ডেস্ক রয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশে থাকাই আমাদের লক্ষ্য।”

ইসলামী ছাত্রশিবির রাবি শাখার সেক্রেটারি মেহেদী হাসান বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য হেল্প ডেস্ক চালু রেখেছি। কলম, চাবির রিং, সকালের নাস্তা ও অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।”

ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানান, “আমরা পরীক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছি। মেডিকেল ক্যাম্প ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, আগামীকাল (১৭ জানুয়ারি) ‘এ’ ইউনিট এবং ২৪ জানুয়ারি ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর মোট ২ লাখ ৭২ হাজার ৬২৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আঞ্চলিক কেন্দ্র করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।