বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের পর্দা নেমেছে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি)। চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পদ্মাপাড়ের দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শিরোপা জয়ের উল্লাস মাঠ থেকে হোটেল পর্যন্ত ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই আনন্দ ভাগাভাগি করতে বিপিএলের ট্রফি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে আসে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দল।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাদখোলা বাসে ট্রফিসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে দলটি। কাজলা গেট দিয়ে ঢুকে প্যারিস রোড ও জোহা চত্বর প্রদক্ষিণ করে মেইন গেট দিয়ে বের হয়ে যান চ্যাম্পিয়নরা।
এ সময় বাসের সামনে ও পেছনে শিক্ষার্থীদের জনস্রোত দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের টি-শার্ট বাসের দিকে ছুড়ে দেন, যেখানে শান্ত, মুশফিক ও তামিমরা অটোগ্রাফ দেন। ছাদখোলা বাস থেকে খেলোয়াড়দের ফুলঝুড়ির মতো জার্সি ছুড়ে দিতে দেখা যায়। সেই জার্সি সংগ্রহ করতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
টিম বাসের পাশে উল্লাস করছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম হাসান। অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “রাজশাহী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে—এটা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। খেলোয়াড়দের সামনাসামনি দেখতে পারছি, এতে আমরা খুবই উচ্ছ্বসিত। এই প্রথম ছাদখোলা বাসে সরাসরি বিপিএলের ট্রফি উদযাপন দেখছি।”
সংবর্ধনায় অংশ নিতে দেখা যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও। অনুভূতি জানাতে তারা বলেন, “বিপিএলে রাজশাহীর জয় মানে আমাদেরই জয়। দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা অর্জন করায় আমরা খুব খুশি। তবে কষ্ট লেগেছে যে আমরা জার্সি পাইনি। একটা জার্সি পেয়েছিলাম, সেটাও একজন হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সামনে থেকে দেখে আমরা খুবই আনন্দিত।”
শান্ত-মুশফিকদের কাছ থেকে জার্সি পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান। তিনি বলেন, “জার্সি পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি রাজশাহীর লোকাল না হলেও রাজশাহীর জয় আমার খুব ভালো লাগছে। প্রথমবারের মতো ছাদখোলা বাসে এমন উদযাপন দেখছি। রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক পক্ষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, তারা দারুণ দল সাজিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং এখন শহরবাসীর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছে।”
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিপিএলের ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এর আগে ২০১৯–২০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বিপিএলের শিরোপা জিতেছিল দলটি।