ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানকে পুনর্বহালের দাবিতে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক আবসার কামালকে অবরুদ্ধ করেছেন শিক্ষার্থীরা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অব্যাহতি অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানকে পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইনস্টিটিউটের ইংরেজি ভাষা বিভাগের একদল শিক্ষার্থী পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় তারা অধ্যাপক সাইদুর রহমানকে পুনর্বহালের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের হস্তক্ষেপে অধ্যাপক আবসার কামাল মুক্ত হন।
ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অব্যাহতি পাওয়া আওয়ামীপন্থি নীল দলের শিক্ষক হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামালের ঘনিষ্ঠ সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমানের নির্দেশেই ইংরেজি বিভাগের একাংশ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় ইনস্টিটিউটে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে অন্যান্য ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে সমর্থন দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষক বলেন, “শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত। বর্তমান পরিচালকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়টি নিয়ে ইনস্টিটিউটে অস্থিরতা বিরাজ করছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস জানায়, “একদল শিক্ষার্থী ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক আবসার কামালকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।”
এদিকে এ ঘটনার পর ইংরেজি ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, “আমাদের সম্মানিত শিক্ষকের সঙ্গে একটি ভুল বোঝাবুঝির সূত্র ধরে দীর্ঘদিন ধরে আমরা অন্যায়ের শিকার হচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইংরেজি ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অধিকাংশ শিক্ষক ছুটিতে থাকায় যোগ্য শিক্ষকের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণা/থিসিস ও টিচিং প্র্যাকটিকামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোর্সে অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধানের অভাবে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।”
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ইংরেজি ছাড়াও অন্যান্য ভাষা বিভাগেও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব, সেমিস্টার দেরিতে শুরু, অসম্পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ ও শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ নানা সমস্যা বিরাজ করছে। এসব বিবেচনায় অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানকে একাডেমিক কার্যক্রমে পুনর্বহালের মাধ্যমে বিভাগের বিভাজন নিরসনের জন্য উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক আবসার কামাল বলেন, “গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক সাইদুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসহ একাধিক অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত তথ্য অনুসন্ধান কমিটি এখনো তদন্ত করছে। এ কারণেই তাকে দীর্ঘদিন ধরে সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “এক সপ্তাহ আগে শিক্ষার্থীরা তাকে ক্লাসে ফেরানোর দাবিতে উপাচার্য বরাবর আবেদন করে। উপাচার্য মহোদয় ওই চিঠির বিষয়ে আমার মতামত জানতে চাইলে আমি ইনস্টিটিউটের সিএন্ডডি কমিটির সভা ডেকে লিখিত মতামত পাঠাই।”
অবরুদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে পাঠানো চিঠির কপি দেখতে বা বিষয়বস্তু পড়ে শোনাতে আমাকে চাপ দেয়। আমি জানাই, এটি প্রদান করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণেই তারা আমাকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি এসে আমাকে উদ্ধার করে।”