দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম চার মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামগ্রিক কল্যাণে যে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে, তার বিস্তারিত কার্যবিবরণী প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে জাকসুর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের উদ্বোধন এবং চলমান ও ভবিষ্যৎ বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কার্যক্রমের বিবরণ উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত চার মাসে জাকসু শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, পরিবেশ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
কার্যক্রমের শুরুতে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ‘অদম্য ২৪’ এবং প্রয়াত জিএসের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া, শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে গত ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
আবাসন ব্যবস্থাপনায় জাকসু ও হল সংসদসমূহের সমন্বয়ে ৫৪তম ব্যাচের ১ হাজার ৮৮৯ জন শিক্ষার্থীর আবাসন সমস্যা সমাধান নিয়ে যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষাকেন্দ্রিক সময়ে তথ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনা, হলের মাধ্যমে আবাসন ব্যবস্থা, অভিভাবকদের বসার স্থান, জরুরি চিকিৎসা সেবা, ইমার্জেন্সি বাইক রাইড এবং ব্রেস্টফিডিং কর্নার চালু করা হয়।
পরিবহন খাতে চলমান আটটি কার্টের সঙ্গে আরো ১০টি নতুন কার্ট সংযুক্ত করা হয় এবং নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা হয়। পরিবেশবান্ধব গতি নিয়ন্ত্রকসহ ১০০টি অটোরিকশা চালু করা হয়। ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে রাত ১০টার বাস সার্ভিস চালু করা হয়। পাশাপাশি মিরপুর, খিলগাঁও ও উত্তরা রুটে বাস ট্রিপ বৃদ্ধি এবং নবীনগর, আশুলিয়া ও কামারপাড়া রুটে নতুন বাস সার্ভিস চালু করা হয়। পূজার ছুটিতে ময়মনসিংহ রুটে বাস সার্ভিস এবং ৪৯তম বিসিএস ও জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাস ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়।
নিরাপত্তা জোরদারে প্রান্তিক, ডেইরি ও এমএইচ গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির দাবিতে জাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে র্যাগিং প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এন্টি-র্যাগিং সেল গঠন করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে মেডিকেল সেন্টারে ওজন মাপার যন্ত্র ও নেবুলাইজার সংযোজন, ৮৫ ধরনের ওষুধ সরবরাহ এবং সাতজন খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বটতলার খাবারে ঢাকনা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়। অভ্যন্তরীণ দোকান মালিকদের নিয়ে সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাফেটেরিয়ার খোলা রাখার সময়সীমা বৃদ্ধি এবং বিকেলের নাস্তা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণে ক্যাম্পাসের প্রায় ২০টি আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার এবং ৪০টি স্থায়ী ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি পথের প্রাণ ও জাকসুর যৌথ উদ্যোগে ক্যাম্পাসের বিড়াল ও কুকুরদের ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা হয়। শীতকালীন অতিথি পাখির আগমনের আগে মনপুরা লেক সংস্কার ও মাচা নির্মাণ করা হয়।
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে ফ্রেন্ডলি ক্রিকেট ও বাস্কেটবল ম্যাচ, ই-ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং আন্তঃহল শর্টপিচ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। এছাড়া লালন সন্ধ্যা, পালা উৎসব, কবি ফররুখ আহমদ স্মরণ অনুষ্ঠান, বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, র্যালি ও চিত্র প্রদর্শনী আয়োজনের কথা জানানো হয়।
এছাড়া বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সেমিনার, ক্যারিয়ার পাথ ও উচ্চশিক্ষা এক্সপো আয়োজন এবং সামাজিক ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সংহতি কর্মসূচির কথাও কার্যবিবরণীতে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে নতুন ছয়টি হলে গ্যাস সংযোগ, কলা অনুষদে সাইকেল স্ট্যান্ড স্থাপন এবং ঢাকা–আরিচা মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত নির্মাণ, আলোকসজ্জা ও সড়ক সংস্কারসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত ও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জাকসু নেতারা জানান, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে এবং ভবিষ্যতে আরও পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।