ক্যাম্পাস

৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভা

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আদর্শ, সংগ্রাম ও ত্যাগের ধারাবাহিকতা তুলে ধরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ছাত্রশিবিরের নেতৃরা ও ডাকসুর প্রতিনিধিরা ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির ভূমিকা, আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যয় নিয়ে বক্তব্য দেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ আলোচনা সভার শিরোনাম ছিল; ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির: আদর্শ, সংগ্রাম ও ত্যাগের সিলসিলা’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ এবং ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলের বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে তিনি কখনো হলে থাকার সুযোগ পাননি। ক্যাম্পাস জীবনের অন্যতম স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগে ‘নারায়ে তাকবীর’ স্লোগান দেওয়া।”

তিনি আরো বলেন, “২০২৪ সালের নির্বাচনের পর কিছুটা হতাশ হয়ে পড়লেও আল্লাহ তায়ালা যেভাবে দেশকে আবার স্বাধীনতার পথে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং পাঁচটি ছাত্র সংসদে ভূমিধস বিজয় দান করেছেন, তা ভাবলেই তিনি অশেষ শুকরিয়া আদায় করেন এবং আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ মনে করেন, ছাত্রশিবিরের আজকের অবস্থান শত-সহস্র ভাইয়ের শাহাদাৎ, ত্যাগ ও দাওয়াতী কাজের ফসল।

ফরহাদ বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রশিবিরের ওপর চরম নির্যাতন চললেও সংগঠনটি কখনো দাওয়াতী কার্যক্রম, প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম কিংবা মৌলিক সাংগঠনিক কাজ বন্ধ রাখেনি।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “১৯৭৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রশিবিরের যাত্রা শুরু হয়। শত জুলুম, প্রপাগান্ডা, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েও ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।”

তিনি উল্লেখ করেন, গুম কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ফ্যাসিবাদী আমলে একক সংগঠন হিসেবে ৩১ শতাংশ গুমের শিকার হয়েছে ছাত্রশিবির। বামপন্থিদের লাল সন্ত্রাস, মিডিয়া সন্ত্রাস, মিথ্যাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের মুখেও ছাত্রশিবির এগিয়ে চলেছে।

তিনি আরো বলেন, “আজ বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সমাজ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রশিবিরকেই বেছে নিয়েছে এবং সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তুলতে সংগঠনটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মহিউদ্দিন খান বলেন, “ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের জন্য এক অনন্য নিয়ামত। ইতিহাসের সম্ভবত সবচেয়ে সুসময় পার করছে ছাত্রশিবির; তবে আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমাদের চূড়ান্ত সফলতা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সকলের আরাধ্য জান্নাত।”

ইনসাফ ভিত্তিক, আইনের শাসন সম্পন্ন ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক।