বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সিন্ডিকেটের শর্ত উপেক্ষা করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং পছন্দের প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চতুর্থ গ্রেডের পদে প্রকাশিত দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন), অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অতিরিক্ত পরিচালক (সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার) পদে ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত পূর্ব নির্ধারিত ও সিন্ডিকেট অনুমোদিত যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৯-এর ধারা ২৩(২)(ফ) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ এবং চাকরির শর্ত নির্ধারণ করার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের। ২০২৪ সালের ৪ জুন প্রকাশিত চতুর্থ গ্রেডের অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি-সায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণির (গ্রেড-৯) পদে ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা ছিল। তার মধ্যে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা পদে চার বছরের অভিজ্ঞতা থাকার তথ্য রয়েছে।
অথচ গত ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে চতুর্থ গ্রেডের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন), অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও অতিরিক্ত পরিচালক (সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার) পদে অভিজ্ঞতার শর্ত বাড়িয়ে ১৩ বছর করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই পরিবর্তন সিন্ডিকেটে অনুমোদন ছাড়াই করা হয়েছে এবং এটি পরিকল্পিতভাবে এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকজন ছাড়া অন্যরা আবেদন করতে না পারেন। এতে করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আরো অভিযোগ উঠেছে যে, আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন কাউন্সিল শাখার ময়নুল আযাদ এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সংস্থাপন শাখার তারিকুল ইসলাম। তারা দুজনেই অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন)-এর শূন্য পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি তারা নিজেরাই নিজেদের আবেদন যাচাই-বাছাই করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পছন্দের ব্যক্তির বাইরে যেন আবেদন করতে না পারেন, সেজন্য এমন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। শতপূরণসাপেক্ষে কমপক্ষে তিনজনের আবেদনপত্র জমা না হলে নিয়োগ বোর্ড করা যায় না। অথচ লাইব্রেরির অতিরিক্ত পরিচালক পদে মাত্র দুজন আবেদন করেছেন, তারা আবার অভ্যন্তরীণ প্রার্থী। কমপক্ষে তিনজন দেখানোর জন্য আরেকটা আবেদন অবশ্য আছে, যেটি অভিজ্ঞতায় কভার করে না। তবুও বাছাই বোর্ড তাকে উত্তীর্ণ করেছে।
রাইজিংবিডি ডটকমের সঙ্গে কথা হলে সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার তারিকুল ইসলাম বলেন, “আমার কাজ শুধু তাদের (বোর্ড) সবকিছু তৈরি করে দেওয়া। বোর্ড যেভাবে কাজ করবে, সেভাবে হবে। দাপ্তরিক কাজে যেটুকু সংশ্লিষ্ট থাকার কথা, সেটুকুই থাকব; এর বাহিরে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই।”
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে বেরোবি রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।
বেরোবি উপাচার্য শওকাত আলীর কাছে জানতে চাইলে রাইজিংবিডি ডটকমকে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি জানি না। আফিসে যোগাযোগ করো।”
পছন্দের প্রার্থীদের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “যারা বলেছেন তাদের কাছ থেকেই শোনো। আমি জানি না।”
এ ধরনের নিয়োগের বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. তানজিম উদ্দিনের জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি।