ক্যাম্পাস

মন্ত্রিসভায় ঢাবির প্রাক্তন ২৫ শিক্ষার্থী, কে কোন মন্ত্রণালয়ে

বাংলাদেশের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের (ঢাবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। দেশের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে অন্তত ২৫ জন ঢাবি অ্যালামনাই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ভূমিকা আবারো সামনে এসেছে।

মন্ত্রণালয়ে ঢাবির প্রাক্তনরা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আছেন সালাউদ্দীন আহমদ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান।

শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন আফরোজা খানম রিতা। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আছেন জহির উদ্দিন স্বপন।

শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতের দায়িত্বে রয়েছেন এহসানুল হক মিলন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে আছেন সাখাওয়াত বকুল। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন নিতাই রায়। সড়ক পরিবহন ও নৌপরিবহন–সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে রয়েছেন রবিউল আলম। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ফকির মাহাবুব আনাম।

প্রতিমন্ত্রী পর্যায়েও শক্ত উপস্থিতি

প্রতিমন্ত্রী পর্যায়েও ঢাবির প্রাক্তনদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সামাজিক উন্নয়ন ও যুব–সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে রয়েছেন নূরুল হক নূর। পরিকল্পনা ও নীতিসহায়ক ভূমিকায় আছেন জোনায়েদ সাকি। যুব ও ক্রীড়া–সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করছেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। আইন ও প্রশাসনিক সহায়তায় রয়েছেন কায়সার কামাল।

নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফারজানা শারমিন পুতুল। স্থানীয় সরকার–সহযোগী দায়িত্বে আছেন আজিজুল বারী হেলাল। ধর্ম ও সমাজকল্যাণ–সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে রয়েছেন ফরিদুল ইসলাম। পরিবেশ ও উন্নয়ন খাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন রাজিব আহসান। তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন–সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে আছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গ্রামীণ উন্নয়ন ও যুব খাতে দায়িত্ব পালন করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বিশ্লেষকদের মতে, একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এত সংখ্যক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর একসঙ্গে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য নতুন করে প্রতিফলিত হয়েছে এই মন্ত্রিসভায়।

সবমিলিয়ে, নবগঠিত সরকারের নীতি-নির্ধারণী কাঠামোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।