ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে তারা অবস্থান নেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় নাইমুদ্দীনকে মারধর করে পুলিশ। একই ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন। দাবিগুলো হলো-রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমসহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে অযাচিত পুলিশি তৎপরতা বন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, “নাইমুদ্দীনের ওপর হামলার প্রতিবাদে আমরা নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। ক্যাম্পাস ও আশপাশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় নাইমুদ্দীন পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাকে লক্ষ্য করে লাঠিপেটা করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ‘ছোটভাই, আর্গুমেন্ট বেশি করতেছো’ বলে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন সহপাঠীরা।
ঘটনার পর বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আহতদের খোঁজখবর নেন।
মাসুদ আলম বলেন, “ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”