রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৭ জন সাবেক শিক্ষার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন আসন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তারা সংসদে যাচ্ছেন। বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের পাশাপাশি সম্ভাবনার নতুন দ্বার হিসেবে দেখছেন বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন; রাজশাহী–১ আসন থেকে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), জয়পুরহাট–২ থেকে আব্দুল বারী (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি), নীলফামারী–৪ থেকে আব্দুল মুনতাকিম (জামায়াতে ইসলামী), রংপুর–৫ থেকে মো. গোলাম রব্বানি (জামায়াতে ইসলামী), পাবনা–৪ থেকে মো. আবু তালেব মন্ডল (জামায়াতে ইসলামী), লালমনিরহাট–৩ থেকে আসাদুল হাবীব দুলু (বিএনপি), সিরাজগঞ্জ–১ থেকে সেলিম রেজা (বিএনপি) এবং সিরাজগঞ্জ–৪ থেকে মো. রফিকুল ইসলাম খান (জামায়াতে ইসলামী)।
পাবনা–২ থেকে একেএম সেলিম রেজা হাবীব (বিএনপি), রাজবাড়ী–২ থেকে মো. হারুনুর রশীদ (বিএনপি), ঢাকা–১৬ থেকে মো. আব্দুল বাতেন (জামায়াতে ইসলামী), চাঁপাইনবাবগঞ্জ–১ থেকে মো. কেরামত আলী (জামায়াতে ইসলামী), চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২ থেকে মুহা. মিজানুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী), চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ থেকে মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল (জামায়াতে ইসলামী), জামালপুর–৫ থেকে শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন (বিএনপি), যশোর–৪ থেকে মো. গোলাম রসুল (জামায়াতে ইসলামী) এবং পটুয়াখালী–২ থেকে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (জামায়াতে ইসলামী) নির্বাচিত হয়েছেন।
দিনাজপুর–২ থেকে সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী (বিএনপি), দিনাজপুর–৪ থেকে আখতারুজ্জামান মিয়া (বিএনপি), দিনাজপুর–৫ থেকে এজেএম রেজওয়ানুল হক (স্বতন্ত্র), শেরপুর–১ থেকে মো. রাশেদুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী), কুড়িগ্রাম–৩ থেকে মো. মাহাবুব সালেহী (জামায়াতে ইসলামী), নাটোর–৩ থেকে আনোয়ারুল ইসলাম আনু (বিএনপি), রংপুর–৩ থেকে মো. মাহাবুবুর রহমান হেলাল (জামায়াতে ইসলামী), পাবনা–৫ থেকে মো. শামসুর রহমান শিমুল (বিএনপি), ঝিনাইদহ–২ থেকে অধ্যাপক আযম আবু বকর (জামায়াতে ইসলামী) এবং ঝিনাইদহ–৩ থেকে মো. মতিয়ার রহমান (জামায়াতে ইসলামী) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে রাকসুর সহ-বিতর্ক সম্পাদক নয়ন মোরসালিন বলেন, “রাবি থেকে ২৭ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। জাতীয় রাজনীতিতে রাবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে, এটি আমাদের জন্য গর্বের। অতীতে দেখা গেছে, মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা নির্দিষ্ট কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আমরা আশা করি, এবার নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দলীয় ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে সমানভাবে দেখবেন।”
তিনি আরো বলেন, “বিশেষ করে রাবিসহ আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, খাদ্য ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষাব্যবস্থার অগ্রগতিতে তারা কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশা। এই ২৭ জনের হাত ধরে স্বপ্নের স্বয়ংসম্পূর্ণ রাবি গড়ে উঠবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তাসীন খান বলেন, “বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় অনুপ্রেরণা, বিশেষ করে যারা রাজনীতি চর্চা করেন। নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে একটি প্রতিষ্ঠানের এতোজন প্রতিনিধি থাকলে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে জোরালো দাবি তোলার সুযোগ তৈরি হয়। আবাসন সংকট সমাধান ও গবেষণার মানোন্নয়নে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে আমি আশাবাদী।”
তিনি আরো যোগ করেন, “দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিজ ক্যাম্পাসের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখলে রাবি বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।”
রাবির শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মারুফ হোসেন বলেন, “উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হয়েও রাবি দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার। আবাসন সংকট, খাবারের নিম্নমান, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সুবিধার অভাব এবং সীমিত গবেষণা বাজেট, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। এবার বিভিন্ন দলের ২৭ জন প্রতিনিধি সংসদে গেছেন। আমরা আশা করি, তারা আবাসন সংকট নিরসন, গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি, খাবারে ভর্তুকি এবং সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।”