ক্যাম্পাস

বাকৃবির আবাসিক হলে ‘ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের’ অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবাসিক হলে ‘ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের’ অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল রহমান শফিকের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে ছাত্রলীগের কর্মীদের বাকৃবির মাওলানা ভাসানী হলে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করেন অন্য শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতের দিকে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলার ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীকে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে অন্য আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এই প্রক্রিয়া চলছিল।

শুক্রবার রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল করেন। এ সময় তারা ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভাসানী হলে হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্তদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান।

ঘটনাকে ঘিরে ছাত্রদলের উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা বাগ্‌বিতণ্ডা ও উত্তেজনাপূর্ণ বাক্যবিনিময় চলে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টকে অবহিত করেন। প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ওই হলে যান। তাদের গাড়িতে করে অভিযুক্ত তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন পরিস্থিতি বুঝে আগেই হল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, “ঘটনাটি জানার পর প্রভোস্টের অনুমতি নিয়ে প্রক্টরিয়াল বডি হলে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়া তারা হলে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি সমাধানে হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদলের সদস্য সচিব শফিকুল রহমান তা অস্বীকার করে বলেন, “যাদের হলে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, তাদের সঙ্গে তার বা তার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের দোসরদের এই ক্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। ছাত্রলীগ পুনর্বাসন হোক বা এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক, আমি তা চাই না। আমি হলে ওঠার পর থেকেই একটি মহল আমার নামে অনলাইনে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “হলে সিট বরাদ্দের বিষয়টি শিক্ষার্থীদের পর্যায়ের বিষয়। কারা সিট পাবে, তা নিয়ে হল প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”

শফিকুল দাবি করেন, বিষয়টি জানার পর তিনি নিজেই প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর গেস্টরুম কালচার ও র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের হলে না তোলার যে সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিয়েছে, তা এখনো বহাল আছে। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণসহ পেলে হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”