ক্যাম্পাস

রাকসু জিএস আম্মার ও ছাত্র অধিকার পরিষদের মারুফের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা

ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে 'চুলকানি শুরু, মলমের নাম নুরু' এমন মন্তব্য ঘিরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার ও রাবি ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে রাকসু ভবনে সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে এই বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে রাকসু ভবনের সামনে ব্রিফিং করে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের পদ স্থগিতের দাবি জানান মেহেদী মারুফ।

এর আগে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ তার নেতাদের নিয়ে কার্যালয়ে আসেন। পরে তাদের মধ্যে ফেসবুক কমেন্টে "চুলকানি শুরু মলমের নাম নুরু" ঘিরে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। পরে একের পর এক কথা কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন তারা।

এরপর কার্যালয় থেকে বের হয়ে রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ অভিযোগ করেন, “একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে রাকসুর কার্যক্রম নিয়ে পোস্ট করেছিলাম। সেই পোস্টে সে (আম্মার) এই মন্তব্যের মাধ্যমে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে উদ্দেশ করে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করেছেন।”

এছাড়াও, মারুফ সাংবাদিকদের বলেন, “কিছু কমেন্ট চালাচালি হয়েছে যেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে মালখোর, চোদনা, আবাল বলে গালি দিয়েছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নির্বাচিত জিএস হিসেবে সে কখনোই এমনভাবে শব্দ ব্যবহার করতে পারেন না। আমরা মনে করি তার নৈতিক স্খলন হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা এখন রাকসুর সভাপতি ড. সলেহ হাসান নকিবের কাছে যাব।”

তবে জিএস আম্মারের দাবি, তিনি কেবল ছন্দ মেলানোর জন্য ‘নুরু’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, কাউকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেননি। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

পদ স্থগিতের দাবির বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরাই নেবে। এটি তাদের রাজনৈতিক কৌশল। একটা কমেন্টকে টেনে এই করবি কেন ওই করবি কেন যেটা অনেকটা টাচ করবিনা পলিটিক্সের মতো হয়ে গেছে। সবাই যখন রাজনীতির মাঠে নিরব তখন তারা মিডিয়া অ্যাটেনশোন নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট করার জন্যই এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।”

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী মারুফ রাকসুর সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, “রাকসু ফরজ কাজ বাদ দিয়ে নফল কাজেই বেশি মনোযোগী এবং পারদর্শী। হবেই না বা কেন? নফল দিয়েই যদি বৈতরণি পার হওয়া যায়, তাহলে ফরজের আর দরকারটা কি!”

এই পোস্টের কমেন্টে সালাউদ্দিন আম্মার কমেন্ট করেন “চুলকানি শুরু মলমের নাম নুরু।”