জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাংবাদিক সমিতি নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে জড়িয়েছে সংগঠনের দুই গ্রুপের সদস্যরা। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলের একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শাখা ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির। সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে উভয় পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বুধবার (৫ মার্চ) অবকাশ ভবনের ৩য় তলায় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) জবি প্রতিনিধি মাহামুদুর রহমান নাজিদ, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের জবি প্রতিনিধি মাহির মিলন, দৈনিক প্রথম আলোর জবি প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, দৈনিক কালেরকন্ঠের জবি প্রতিনিধি জুনায়েদ শেখ, দৈনিক যুগান্তরের জবি প্রতিনিধি সাকেরুল ইসলাম, দৈনিক সময়ের আলোর জবি প্রতিনিধি মুশফিকুর রহমান ইমন, শাখা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব, শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফও আহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন।
বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এ ঘটনার জেরে সাংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, ‘‘৫ আগস্টের পর আমরা একটা নিরপেক্ষ দেশ পেয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিটি সাংবাদিক সংগঠন নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই চলবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, একটা গোষ্ঠী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিকে তাদের পক্ষে নিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে কারো সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। আমরা চাই সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিকরাই নেতৃত্ব দিবে। এখানে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। তবে আমরা চাই, এটা যাতে কারো পক্ষপাতিত্ব না হয়। এ জন্য আমরা ভিসি স্যার, প্রক্টর স্যার, নির্বাচন কমিশনারকে বলেছি, তারা যেন সবার সঙ্গে আলোচনা করে তারপর একটা নিরপেক্ষ তফসিল ঘোষণা করে।’’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক সাকেরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, আজকে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের দিন ধার্য ছিল। এর মধ্যে বেলা পৌনে ১টার দিকে ছাত্রদলের সুপার ফাইভের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা চালায় কিছু বহিরাগত। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকে ছাত্রলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বারবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনের উপর চাপ দিয়ে আসছিল, যাতে সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।
সংঘর্ষের বিষয়ে জবি ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রায়হান হাসান রাব্বি বলেন, ‘‘পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা বৃত্তির জন্য আন্দোলন করছিলাম। হঠাৎ করে সাংবাদিক সমিতির দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমরা বেশ কিছুক্ষণ পর ভিসি স্যারের কাছে গিয়ে এ বিষয়ে অবগত করি এবং স্যারের মধ্যস্ততায় এটি সমাধানের অনুরোধ করি। যেহেতু আমরা অবস্থান কর্মসূচি করছিলাম, তাই সরাসরি সেখানে গেলে আমাদের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে আন্দোলন ভিন্ন দিকে ত্বরান্বিত করতে পারে, তাই আমরা যাইনি। এরপর প্রক্টর স্যার সেখানে যাওয়ার পর একেএম রাকিব সেখানে যায় এবং সবাইকে নামিয়ে আনে।’’
এদিকে ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘‘আমরা সবসময় ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ চাই। সমাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এই প্রত্যাশা করি।’’
এ দিকে শাখা ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক ও জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এ বিষয়ে বলেন, ‘‘জকসুর একটি পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ছিল। সংবাদ সম্মেলন শেষে জকসুর অফিসে থাকা অবস্থায় অবকাশ ভবনের উপরতলা থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে মারামারির ঘটনা দেখতে পাই। জকসুর প্রতিনিধি হিসেবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি, একেবারে শেষ সময় আমার বাম হাতে আঘাত লাগে।’’
তিনি আরোও বলেন, ‘‘জকসুর জিএস বা শিবিরের নেতৃত্ব হামলার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা একেবারেই মিথ্যা ও দায় দেয়ার সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। জকসুর জিএসের হাতে লাঠি- এরকম অভিযোগও আসছে, যা পরিপূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ঘটনার সব ভিডিও ফুটেজ সবার কাছেই রয়েছে; সেগুলো দেখলেই ঘটনা স্পষ্ট হবে।’’
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সত্যতা তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।