ক্যাম্পাস

ইবিতে শিক্ষক হত্যা; কক্ষ সিলগালা, চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যা সংঘটিত কক্ষ সিলগালা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। এ হত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 

কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে নিহতের দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠন শোক প্রকাশ করে।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ২২৬ নং কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখে বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে ওই শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসাইন ইমাম।

পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি, অনুষদের ডিনের প্রতিনিধি ও বিভাগের শিক্ষকের উপস্থিতিতে ২২৬ নং কক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি ও বিভাগের অফিস কক্ষে সিলগালা করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেন কলা অনুষদের ডিনের প্রতিনিধি হিসেবে দাওয়াহ বিভাগের প্রফেসর ড. রহিম উল্ল্যাহ ও সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। 

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাদিয়া হত্যার বিচারসহ ৯ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রশাসন ভবনের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান বাদী হয়ে অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরূদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অন্য আসামিরা হলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান প্রমূখ। 

এর আগে বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে নিহত সাদিয়াকে দাফন করা হয়। কুষ্টিয়া-০৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা, ইবি ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও প্রোভিসি প্রফেসর ড. এম এয়াকুব আলীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন ইউট্যাব, জিয়া পরিষদ, গ্রীণ ফোরাম, রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের শাখা ছাত্রদল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, জমিয়তে তালাবায়েসহ অন্য সংগঠন। 

নিহত শিক্ষিকার পৈতৃক ভিটা কুষ্টিয়ার ফিলিপনগরের দৌলতপুর ও শ্বশুরবাড়ি কুষ্টিয়ার সদর থানার কমলাপুর ইউনিয়নের বংশীতলা গ্রামে। তার দুই ভাই অয়ন (বড়) ও আলিফ (ছোট)। তার বাবা আশিকুল হক ও স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। সাদিয়া রুনা চার সন্তান মেয়ে তাইবা (৯), তাবাসসুম (৭), আমেনা (৭ মাস) ও ছেলে সাজিদ আবরারকে (৩) রেখে গেছেন। 

গত ৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পরে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে তার সঙ্গে ওই শিক্ষকের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। এ ঘটনার ক্ষোভের জেরে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে ধারণা করছেন অনেকে।